প্রধানমন্ত্রীর অডিও বার্তায় ব্রাত্য মতুয়ারা

modi-audio-message-taherpur-matua-community-ignored

কলকাতা: শনিবার মাতুয়াগড় তাহেরপুরে জনসভা করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Modi audio message)। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে তার হেলিকপ্টার নামতেই পারেনি তাহেরপুরে। তাই কলকাতা বিমানবন্দরে ফিরে এসেই অডিও বার্তায় তিনি যোগ দেন সভায়। কিন্তু মতুয়া গড়ে সভা থাকলেও মতুয়াদের নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করতে দেখা গেল না প্রধানমন্ত্রীকে।

SIR এর বিরোধিতা জঙ্গল রাজ নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেও যে মতুয়ারা অধীর অপেক্ষায় বসে ছিলেন তারা কার্যত বিফল মনোরথ হয়েই ফিরেছেন সভা থেকে। প্রথমত SIR এ বাদ পড়ার পর তাদের মনে হয়েছিল মোদী এসে তাদের সম্বন্ধে ইতিবাচক কোনও বার্তা দেবেন কিন্তু না। তেমন কিছুই শোনা গেল না প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে।

   

মোদীর বঙ্গ সফর নিয়ে বিস্ফোরক তৃণমূল

শুধু মাত্র দ্রুত ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন মোদী। এই ঘটনায় মতুয়ারা যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে গেলেন। এর আগেও বিভিন্ন মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের ক্ষোভ দেখা গিয়েছে বিজেপিকে ঘিরে। সবচেয়ে বড় কথা নাগরিকত্বের লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে টাকা। এ অভিযোগ ও করেছেন তারা। মতুয়া সম্প্রদায়ের বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের কাছ থেকেও ইতিবাচক কোনও মন্তব্য আসেনি।

এবং আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেও কোনও বার্তা না পেয়ে কার্যত হতাশ মতুয়া সম্প্রদায়। এর আগেও মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ বিজেপির প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে অনেকে আবেদন করার পরও নাগরিকত্ব পাননি। এছাড়া বিজেপি সমর্থকদের তরফে সিএএ আবেদনের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। মতুয়া মহাসংঘের একাংশ নেতারা প্রকাশ্যেই এই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এবার এসআইআর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা যেন সেই ক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সভাস্থলে উপস্থিত এক মতুয়া যুবক বলেছেন, “আমরা ভোট দিয়েছি বিজেপিকে, কিন্তু আমাদের সমস্যার কথা কেউ শুনছে না।”আশ্চর্যের বিষয়, মতুয়া সম্প্রদায়ের বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর মতুয়াদের হতাশা নিয়ে মুখ খোলেননি। এতে দলের অন্দরেও প্রশ্ন উঠছে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে কি সত্যিই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার সহ অন্য বিজেপি নেতারা অবশ্য বলছেন, প্রধানমন্ত্রী আবার আসবেন এবং তখন বিস্তারিত কথা বলবেন। কিন্তু স্থানীয় মতুয়াদের মনে সেই আশ্বাসে ভরসা জাগছে না।

তৃণমূল কংগ্রেস এই সুযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, “বিজেপি মতুয়াদের ভোট নিয়েছে, কিন্তু কোনও কাজ করেনি। এসআইআর নিয়ে ভয় ছড়াচ্ছে, কিন্তু সমাধান দিচ্ছে না। মোদীজির নীরবতা তারই প্রমাণ।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেছেন যে বিজেপি শুধু লোভ দেখিয়ে ভোট নেয়, কিন্তু প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন