এবার বাংলা ছাড়িয়ে জাতীয় স্তরেও মমতা সরকারের নামে ছিছিক্কার

messi-kolkata-chaos-national-political-row

নয়াদিল্লি: বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল (Messi Kolkata chaos)মেসির সফর ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর ও জনরোষের ছবি সামনে এসেছে, তা আর শুধুমাত্র বাংলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। এই ঘটনা ঘিরে দুর্নীতি, চরম অব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ এবার ছড়িয়ে পড়েছে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে। কলকাতার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এবার সরাসরি মুখ খুললেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ও সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী যার ভাষা ও আক্রমণের তীব্রতা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, যুবভারতীতে যা ঘটেছে তা “শুধু কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, গোটা ভারতের জন্য লজ্জাজনক।” তাঁর কথায়, “একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফুটবলার লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে যে ধরনের অব্যবস্থাপনা, হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে, তা দেশের মাথা নিচু করে দিয়েছে।” তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা ভারতের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আঘাত করেছে।

   

যোগী রাজ্যে বিজেপি রাজ্য সভাপতি নির্বাচনে চমক

বিজেপি মুখপাত্র আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে জানিয়েছেন তিনি এই ঘটনায় ‘ব্যথিত’। কিন্তু সুধাংশু ত্রিবেদীর কটাক্ষ, “ব্যথিত আপনি নন, মমতা জি। পশ্চিমবঙ্গ আজ গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আপনার শাসনে বিধ্বস্ত।” এই মন্তব্যের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায়, বিজেপি এই ঘটনাকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে নয়, বরং শাসনব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মেসির সফর ঘিরে আগে থেকেই রাজ্যে একাধিক অভিযোগ উঠেছে—টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম, ভিআইপি সংস্কৃতি, রাজনৈতিক নেতাদের সেলফি তোলার হিড়িক, সাধারণ দর্শকদের অবহেলা এবং শেষ পর্যন্ত মেসির অনুষ্ঠান ছেড়ে দ্রুত চলে যাওয়া। এসবের জেরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে দর্শকরা, যার পরিণতি হয় ভাঙচুর ও পুলিশের হস্তক্ষেপ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বিজেপিকে একটি বড় সুযোগ এনে দিয়েছে—বাংলার প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন তৃণমূল কংগ্রেস নিজেকে জাতীয় বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, তখন এই ধরনের ঘটনা সেই দাবিকে দুর্বল করতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের একাংশের বক্তব্য, একটি দুঃখজনক ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে সুধাংশু ত্রিবেদীর বক্তব্যের সরাসরি কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

জনমনে প্রশ্ন উঠছে যদি একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের সফরেও নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের বড় কোনও অনুষ্ঠানে পরিস্থিতি কতটা নিরাপদ? এই প্রশ্নই এখন রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন