
কলকাতা: রোহিঙ্গা মুসলিমদের রাজ্য থেকে তাড়াতে যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম (Matua detention controversy)চলে যায় ক্ষতি কি ? ঠিক এমনটাই বুঝিয়ে গেলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর। এই ইস্যুতেই এবার কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী।
মতুয়াদের প্রতি শান্তনুর এই বার্তাকে তিনি প্রকারান্তরে এক প্রকার তঞ্চকতা বলে কটাক্ষ করেছেন। ফেসবুক পোস্টে মনোরঞ্জন কটাক্ষ করে বলেছেন ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে রাজ্যছাড়া করতে ১ লক্ষ মতুয়াকে ডিটেনশন ক্যাম্পে গিয়ে বিজেপির জন্য আত্মবলিদান দেওয়া উচিত।
বিজেপিকে ব্যাঙ্গ করে তিনি বলেছেন, ডিটেনশন ক্যাম্প মানেই জেল নয়, বরং সেখানে নাকি “নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ জীবন” মিলবে তিনবেলা খাবার, চিকিৎসা, ছাদ আর দেওয়াল সহ। এই বক্তব্যে স্পষ্টতই বিজেপির রাজনৈতিক বয়ানকে বিদ্রুপ করে তিনি দেখাতে চেয়েছেন, কীভাবে সাধারণ মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বিজেপি।
আবার তিনি পুরানের তুলনা টেনে ব্যাঙ্গের সুরে বলেছেন “বৃত্তাসুরকে বধ করার জন্য দধীচি মুনি তার বুকের হাড় দিয়ে দিয়েছিল। আপনারা মুসলমানদের সর্বনাশ করার জন্য সামান্য কটা বছর ডিটেনশন ক্যাম্পে গিয়ে থাকতে পারবেন না?”
তৃণমূল বিধায়কের দাবি, মতুয়া সমাজকে ব্যবহার করে বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণ এবং মুসলিম বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে। তাঁর মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে একাংশ মানুষকে ডি-ভোটার বানিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মনোরঞ্জন প্রশ্ন তুলেছেন, “এক লক্ষ না পাঁচ লক্ষ সংখ্যা যাই হোক, কেন কিছু মানুষকে দেশের মধ্যেই বন্দি হয়ে থাকতে হবে?”
এই পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, ভোটার কার্ড থাকুক বা না থাকুক, নাগরিক অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। একইসঙ্গে ৮০০ টাকার বিনিময়ে CAA ফর্ম বিলি করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন বিজেপি মতুয়াদের সম্পূর্ণ ভুল বুঝিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের আগে মতুয়া সমাজকে ঘিরে এই ধরনের বক্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে আরও উত্তেজনা ছড়াবে। বিশেষ করে সীমান্ত জেলা এবং উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই ইস্যু বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তারা আরও বলছেন যে শান্তনুর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে মতুয়ারা আর নাগরিকত্ব পাবে না এবং প্রকারান্তরে বিজেপি ফের চাপে পড়বে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং নাগরিকত্বের ভয় দেখিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, তারা অনুপ্রবেশ রুখতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। সব মিলিয়ে, মতুয়া, মুসলিম, ভোটার তালিকা এবং ডিটেনশন ক্যাম্প এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যে নতুন বিতর্ক শুরু হল, তা আগামী দিনে আরও তীব্র আকার নিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।










