‘মতুয়াদের কখনো উন্নতি হবে না!’ বিস্ফোরক তৃণমূল বিধায়ক

matua-community-controversial-comment-tmc-mla

ঠাকুর নগর শহরের প্রতিষ্ঠাতা মতুয়া জন সম্প্রদায় (Matua community)। যারা স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের হিন্দু নিপীড়ণের কাল থেকে ধীরে ধীরে চলে এসেছিল এই বাংলায়। তথাকথিত জাতের ভিত্তিতে নমঃশুদ্র হিসেবে পরিচিত এই জন সম্প্রদায় নিজেদের জীবনের মানে খুঁজে পায় হরিচাঁদ ঠাকুরের সান্নিধ্যে এসে। বিশেষ করে ১৯৫৪ থেকে ১৯৬০ এর মধ্যে বহু মতুয়া এই দেশে চলে আসে বাংলাদেশ ছেড়ে। পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত এই নমঃশুদ্র সম্প্রদায়কে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

Advertisements

সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াতে নাম বাদ যাওয়ার পর সেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে মতুয়ারা কি শুধুই ভোটব্যাঙ্ক কিংবা রাজনৈতিক দলগুলির দাবার বোড়ে হয়েই রয়ে গিয়েছে ? এতো গুলো বছরে কি উন্নতি হয়েছে তাদের। এই ইস্যুতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তিনি তারা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট করে লিখেছেন মতুয়াদের কখনোই উন্নতি হবে না, অন্তত ৫০ বা ১০০ বছরের মধ্যে নয়।

   

ওমেন্স লিগে গোলের মালা লাল-হলুদের, অপ্রতিরোধ্য সৌম্যা ও ফাজিলা

তিনি বলেন দেশভাগের পরে যখন উচ্চবর্ণের শরণার্থীরা সন্তানদের শিক্ষিত করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক, আমলা ও রাজনীতিক হিসেবে গড়ে তুলছিলেন, তখন নমঃশূদ্র ও মতুয়া সমাজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও আবেগের মধ্যেই আটকে থেকেছে। তিনি বলেন “আমরা গলায় আইচার মালা, মাথায় বড় চুল, ডঙ্কা নিয়ে মাতাম দিয়েছি, কিন্তু শিক্ষাকে গুরুত্ব দিইনি,” এই ভাষাতেই নিজের সমাজকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক।

তিনি আরও স্মরণ করান গুরুচাঁদ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত উক্তি “যে জাতির দল নেই, সে জাতির বল নেই।” তাঁর দাবি, মতুয়া সমাজ কোনও স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি তৈরি করতে পারেনি, রাজক্ষমতায় অংশীদার হওয়ার চেষ্টাও করেনি। এর ফলেই তারা কেবল ভোটব্যাঙ্ক হয়েই রয়ে গিয়েছে।

মনোরঞ্জন তাঁর পোস্টে ইসরায়েলের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, মাত্র এক কোটি ইহুদি জনগোষ্ঠী শিক্ষার জোরে শতাধিক নোবেল পুরস্কার জয় করেছে, আইনস্টাইন বা কার্ল মার্ক্সের মতো মনীষী জন্ম দিয়েছেন। সেখানে “সাড়ে ছয় কোটি নমঃশূদ্র হয়েও আমরা শুধু ভিড় হয়ে রইলাম” এই তুলনা ঘিরেই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তৃণমূল শিবিরের অন্দরেও এই মন্তব্য অস্বস্তি বাড়িয়েছে। প্রকাশ্যে দল কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, বিরোধীরা সুযোগ হাতছাড়া করেনি। বিজেপির একাংশের দাবি, “এটাই তৃণমূলের আসল মনোভাব ভোটের সময় মতুয়া, আর বাকি সময়ে অবহেলা।”

অন্যদিকে, মতুয়া সমাজের একাংশ বলছে, এই বক্তব্য অপমানজনক ও হতাশাজনক। তবে সমর্থকরাও রয়েছেন। তাঁদের মতে, মনোরঞ্জন ব্যাপারী সমাজকে আঘাত করতে নয়, বরং আয়নার সামনে দাঁড় করাতে চেয়েছেন। শিক্ষা, সংগঠন ও রাজনৈতিক সচেতনতা ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয় এই কঠিন সত্যটাই তুলে ধরেছেন তিনি।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements