
কলকাতা: ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে ফের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিয়ের পর অনেক মহিলা স্বাভাবিকভাবেই নিজের পদবি বদল করেন। কিন্তু সেই কারণ দেখিয়ে তাঁদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। এটা কেমন যুক্তি?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কারও বাবার নাম লেখার সময় ইংরেজি অক্ষরে সামান্য ভুল হলেই—যেমন ‘A’ লিখতে গিয়ে ‘E’ হয়ে গেলে—ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মমতার কথায়, “এটা কি অপরাধ? বানানের এই সামান্য ত্রুটির জন্য মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।” বাংলা উচ্চারণ ও ইংরেজি বানানের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষার উচ্চারণ আলাদা, আর তার ইংরেজি বানান অনেক সময় আলাদা হয়। সেই কারণ দেখিয়ে বলা হচ্ছে ‘ম্যাচ করছে না’, তাই নাম কেটে দিচ্ছে। এ কেমন নিয়ম?” তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় ওরা।” তাঁর মতে, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, আর সেটাকেই দুর্বল করার চক্রান্ত চলছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ যাতে ভোট দিতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বক্তৃতায় কেন্দ্র ও শাসক দলের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এদের কোনও লজ্জা নেই। দালালি করারও একটা লিমিট আছে।” তাঁর অভিযোগ, কিছু মানুষ ও প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে কাজ করছে এবং সংবিধান ও গণতন্ত্রকে উপেক্ষা করছে।
মমতার কণ্ঠে ছিল তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা। তিনি বলেন, “এদের ধিক্কার দিলে ধিক্কারও আমাকে ধিক্কার দেয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, যাঁরা এই কাজ করছেন, তাঁদের নৈতিকতা এতটাই নীচে নেমে গেছে যে নিন্দা করাও যেন যথেষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া হলেও, তার নামে যদি মানুষকে হয়রানি করা হয়, তাহলে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রকৃত মৃত ভোটার বা ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার বদলে সাধারণ, পরিশ্রমী নাগরিকদের নিশানা করা হচ্ছে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিক ও ব্লক লেভেল কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা যেন কোনও অন্যায় নির্দেশ মানতে বাধ্য না হন। সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের পাশে আছে বলেও আশ্বাস দেন।










