সংসদে প্রকাশ্যে সোনিয়াকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নাড্ডার

নয়াদিল্লি, ১৫ ডিসেম্বর: সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে (Sonia Gandhi’s Apology in Parliament)সোমবার রাজ্যসভায় ব্যাপক হইচই পড়ে গেল যখন সদনের নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা…

jp-nadda-demands-apology-sonia-gandhi-parliament

নয়াদিল্লি, ১৫ ডিসেম্বর: সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে (Sonia Gandhi’s Apology in Parliament)সোমবার রাজ্যসভায় ব্যাপক হইচই পড়ে গেল যখন সদনের নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা কংগ্রেসের একটি র‍্যালিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ওঠা বিতর্কিত স্লোগান নিয়ে তোপ দেগে সোনিয়া গান্ধীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানালেন। গতকাল রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’ বিরোধী র‍্যালিতে কিছু কর্মী-সমর্থকদের মুখে ‘মোদী তেরি কবর খুদেগি, আজ নয় তো কাল খুদেগি’ ধ্বনি ওঠায় এই বিতর্কের সূত্রপাত।

Advertisements

সোনিয়া গান্ধী সামনের সারিতে বসে থাকায় নাড্ডা সরাসরি তাঁকে লক্ষ্য করে বলেন, এই স্লোগান কংগ্রেসের মানসিকতার প্রতিফলন এবং সোনিয়াজির দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।রাজ্যসভায় জিরো আওয়ারে নাড্ডা বলেন, “দুঃখ আর ক্ষোভ নিয়ে বলছি, গতকাল কংগ্রেসের র‍্যালিতে ‘মোদী তেরি কবর খুদেগি’ ধরনের স্লোগান ওঠে। এটা কংগ্রেসের চিন্তাধারা ও মানসিকতার প্রমাণ। দেশের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

   

গেরুয়া রাজ্যে মন্দিরের জমি দখলকারী শানু মিয়াঁ কে উচিত শিক্ষা জনতার

রাজনীতির মান এত নীচে নামিয়ে দেওয়া অকল্পনীয়।” তিনি আরও যোগ করেন, সোনিয়া গান্ধী যিনি সদনে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর উচিত দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া। নাড্ডার এই বক্তব্যের পর বিরোধী বেঞ্চ থেকে প্রবল প্রতিবাদ ওঠে, সদন উত্তাল হয়ে ওঠে এবং অধিবেশন মুলতুবি করতে হয়।র‍্যালিটি ছিল কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি, গদ্দি ছোড়’ অভিযানের অংশ। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী সহ শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মিলে বিজেপি ভোট ম্যানিপুলেশন করছে। কিন্তু র‍্যালিতে কিছু কর্মীর মুখে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই আপত্তিকর স্লোগান ওঠায় বিজেপি তীব্র আক্রমণ শানায়। কংগ্রেস নেত্রী মঞ্জুলতা মিনা এই স্লোগানের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, “ভোট চুরির জন্য জনরোষ এতটাই যে এমন কথা বেরিয়ে আসছে। আমি আমার কথায় অটল।” তবে কংগ্রেসের কিছু নেতা দূরত্ব রেখে বলেছেন, এটা তাদের লোকের কাজ নয়, হয়তো অনুপ্রবেশকারী।

বিজেপির তরফে কিরণ রিজিজু, সম্বিত পাত্র সহ অনেকে এই স্লোগানকে ‘প্রধানমন্ত্রীর জীবনের হুমকি’ বলে নিন্দা করেছেন। রিজিজু বলেন, “গণতন্ত্রে এমন ভাষা অগ্রহণযোগ্য। রাহুল গান্ধী ও খাড়্গের ক্ষমা চাওয়া উচিত।” লোকসভাতেও এই ইস্যুতে হইচই হয়, সদন মুলতুবি হয়। বিজেপি মুখপাত্ররা বলছেন, এটা কংগ্রেসের হতাশা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয়। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা মণিকম ঠাকুর বলেন, “আমাদের র‍্যালি বিজেপিকে রাতে ঘুমোতে দেয়নি। তারা ইস্যু ঘুরিয়ে দিতে চাইছে।”

Advertisements