নৈহাটিতে বালি মাফিয়ার দৌরাত্বে বিপদে জুবিলী সেতু

নৈহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা: গঙ্গার তীরে নৈহাটির সাহাপাড়া ঘাটে ফের বেআইনি বালি (illegal sand mining near Jubilee Railway Bridge)তোলা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জুবিলি…

illegal-sand-mining-jubilee-railway-bridge-naihati

নৈহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা: গঙ্গার তীরে নৈহাটির সাহাপাড়া ঘাটে ফের বেআইনি বালি (illegal sand mining near Jubilee Railway Bridge)তোলা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জুবিলি রেল ব্রিজের একেবারে কাছেই দিনের পর দিন চলছে অবাধে অবৈধ বালি খাদান, যার ফলে সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গুরুতর আশঙ্কা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

ভাটপাড়ার বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, সাহাপাড়া ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বালি মাফিয়া ও সিন্ডিকেট সক্রিয়। অর্জুন সিং দাবি করেছেন, এই বেআইনি কার্যকলাপ চলছে রাজনৈতিক প্রশ্রয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে। অভিযোগকারীর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আশীর্বাদ ও পুলিশের “রক্ষাকবচ” থাকায় বালি মাফিয়ারা কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে।

   

T-90 ভীষ্মকে নতুন রূপ দেবে ভারতীয় সেনা, ১,০০০ ট্যাঙ্ক আপগ্রেড করার মেগা প্ল্যান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, এই বেআইনি বালি উত্তোলনের ফলে নদীর তীরভাঙন দ্রুত বাড়ছে, যা ঐতিহাসিক জুবিলি রেল সেতুর ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুর আশপাশ থেকে নিয়ম ভেঙে বালু তোলা হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বদলে যায় এবং পিলারের নিচের মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে বড়সড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বালু তোলা হয়। ট্রাকের পর ট্রাক বালি বেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যত কোনও হস্তক্ষেপ দেখা যায় না। এক বাসিন্দা বলেন, “রাত হলেই নদীর ঘাটে শব্দ শুরু হয়। আমরা জানি এটা বেআইনি, কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস পাই না। কারণ, সবাই জানে এর পিছনে কারা আছে।”

এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, শাসক দলের একাংশের মদত ছাড়া এত বড় মাপের বেআইনি বালু খাদান সম্ভব নয়। তাদের বক্তব্য, পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি জননিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে রেল সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর পাশে এই ধরনের কাজ চলা মারাত্মক বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্যদিকে, শাসক শিবিরের তরফে এই অভিযোগকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট বিবৃতি সামনে আসেনি। নৈহাটি থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, অবৈধ বালু খাদান শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি একটি বড় পরিবেশগত সংকট। নদীর তলদেশ থেকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বালু তোলা হলে জলস্তর নেমে যায়, তীরভাঙন বাড়ে এবং আশপাশের বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকায়।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে জুবিলি রেল সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে বড় বিপদ তৈরি হতে পারে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে বেআইনি বালু খাদান বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সব মিলিয়ে, নৈহাটির সাহাপাড়া ঘাটের এই অভিযোগ শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং প্রশাসনিক নজরদারি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জননিরাপত্তা এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।