রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদের শক্তিপুরে হুমায়ুন (Humayan kabir) কবীরের বাড়িতে অভিযান চালায় বিশাল পুলিশ দল। পুলিশি অভিযানটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীরের ছেলের বিরুদ্ধে নিরাপত্তারক্ষীদের মারধরের অভিযোগ ওঠার পর এই অভিযান পরিচালিত হয়। তবে পাল্টা অভিযোগও রয়েছে, হুমায়ুন কবীরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীরা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।
পুলিশি সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে শক্তিপুরের হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ দল। তারা বাড়ি ঘিরে রেখেছিল এবং প্রয়োজনীয় তল্লাশির ব্যবস্থা করেছিল। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পুলিশি উপস্থিতি হঠাৎ হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং অভিযানের কারণ জানতে চাইতে থাকেন।
হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তার ছেলে কোনো ধরনের সহিংসতা চালায়নি। তার মতে, নিরাপত্তারক্ষীরা অতিরিক্ত কঠোরতা ব্যবহার করেছেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারকে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা চাই সত্য উদঘাটন হোক।”
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, হুমায়ুন কবীরের ছেলের বিরুদ্ধে নিরাপত্তারক্ষীদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি স্থানীয় নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘনের সাথে সম্পর্কিত। পুলিশ এই অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযানের ব্যবস্থা করেছে। মুর্শিদাবাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তারা স্থানীয়দের শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে। পুলিশি অভিযান চলাকালীন সময়ে বাড়ির আশেপাশে অবরোধ তৈরি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য স্থানীয় যানবাহনের চলাচল সীমিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠা সাধারণ। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হবে। হুমায়ুন কবীর এবং তার পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের বক্তব্যও রেকর্ড করা হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তারা বলেছেন, “যেখানে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এবং পাল্টা অভিযোগও থাকে, সেখানে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সময়ে পুলিশি উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।”
