
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন ঝড় উঠেছে (Humayun Kabir new party)মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ূন কবীরকে কেন্দ্র করে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নতুন দল গড়েছেন তিনি। সোমবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বিশাল জনসভা থেকে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (জেইউপি) নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন হুমায়ূন।
নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নতুন দল গড়েছেন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক। শুধু তাই নয় করেছেন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা। কিন্তু নতুন দল গড়েই বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দোপাধ্যায়ের কোপে পড়েছেন হুমায়ুন। বিমান বন্দোপাধ্যায় বলেছেন হুমায়ূনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু নতুন দল তৈরী করেছে যা একটি দলে থেকে সম্ভব নয়। তাই হুমায়ূনকে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তেমন হলে তাকে ডেকে পাঠাবেন স্পিকার।
ভগবদ্গীতা পড়ান ধর্মীয় শিক্ষা নয়! রায় হাই কোর্টের
কারণ একটি দলের সদস্য থেকে অন্য দল গঠন করা দলত্যাগ আইনের পরিপন্থী।এই ঘটনার সূত্রপাত গত কয়েক মাস ধরে। হুমায়ূন কবীর প্রথমে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করে বিতর্কে জড়ান। ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে তার শিলান্যাস করেন। এর জেরে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। পাল্টা হুমায়ূন ঘোষণা করেন নতুন দল গঠনের।
সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সোমবার বেলডাঙার মির্জাপুরে লাখো সমর্থকের উপস্থিতিতে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। দলের নামে ‘কংগ্রেস’ বা ‘তৃণমূল’ শব্দ না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “এটা সাধারণ মানুষের দল। জনতার উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য।”প্রার্থী তালিকায় চমকের পর চমক। হুমায়ূন নিজে ছাড়াও আরও কয়েকজন ‘হুমায়ূন কবীর’কে প্রার্থী করেছেন।
ভগবানগোলায় এক ব্যবসায়ী হুমায়ূন কবীর, রানিনগরে এক চিকিৎসক হুমায়ূন কবীরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খড়্গপুর গ্রামীণে ইব্রা হাজি, মালদহের বৈষ্ণবনগরে মুস্তারা বিবি, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে মনীষা পাণ্ডে, বালিগঞ্জে প্রথমে নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা হলেও পরে তা বদল করে মুসলিম প্রার্থী দেওয়ার কথা জানানো হয়। হুমায়ূনের দাবি, “মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে জিরো করব।
বিজেপিকেও হুঁশিয়ারি দিচ্ছি। আমরা ১৩৫ থেকে ২০০ আসনে লড়ব। কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। আমরাই কিংমেকার হব।” তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, “আগের মমতা আর এখনকার মমতা এক নয়। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রাপ্য হয়ে গেছেন।”
বিজেপি এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘স্পনসর্ড’ বলে কটাক্ষ করেছে। দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “হুমায়ূন তৃণমূলের এজেন্ট। মুসলিম ভোট ভাগ করার জন্যই এই নাটক।” অন্যদিকে তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, “যা করার আইন করবে।” হুমায়ূন পাল্টা বলেন, “আমি বিধায়ক পদ ছাড়ব না। লড়াই চালিয়ে যাব।”










