ভোটের সমীকরণ বদলে নওশাদকে চ্যালেঞ্জ হুমায়ুনের

humayun-kabir-abhishek-banerjee-political-clash

কলকাতা: নাটকীয়ভাবে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকেই (Humayun Kabir)রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস, তার পর ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP) নামে নতুন দল গঠন সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের মুখে কার্যত আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন তিনি। এবার সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে নিশানা করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ালেন হুমায়ুন।

Advertisements

নওশাদ সিদ্দিকিকে ভাঙড়ে হারানোর প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, জোটের স্বার্থে তিনি কংগ্রেস, সিপিএম এবং নওশাদ সবার সঙ্গেই কথা বলতে পারেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, নওশাদ একদিকে তাঁর সঙ্গে আলোচনার কথা বলছেন, আবার গোপনে তৃণমূলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন।

   

সন্ত্রাসবাদী যোগে চাকরি গেল ৫ সরকারি কর্মীর

“অতি চালাকির গলায় দড়ি পড়ে”, মন্তব্য করে হুমায়ুন বলেন, ভাঙড়ে নওশাদকে কীভাবে হারাতে হয়, তা তিনি দেখিয়ে দেবেন। এমনকী মধ্যরাত পর্যন্ত হওয়া বৈঠকের সময়, প্রবেশ ও প্রস্থানের প্রমাণ থাকার দাবিও করেন তিনি।

এর পাশাপাশি তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়া করেন হুমায়ুন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর দাবি, মুর্শিদাবাদে অভিষেকের সভার থেকেও তাঁর সভায় বেশি ভিড় হবে। তিনি বলেন, “অভিষেক যেখানে যেখানে সভা করবেন, সেখানে সেখানে আমি পাল্টা সভা করব।” এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই মুর্শিদাবাদ রাজনীতিতে শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা।

নদীয়ার কালীগঞ্জে জনতা উন্নয়ন পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করে হুমায়ুন কবীর আরও এক ধাপ এগিয়ে যান। তাঁর দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ১০০টি আসনে জিতবে। এমনকী তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা স্তরের সভা করতেও ভয় পাচ্ছেন এবং তাঁকে বুথ স্তরে নেমে রোড শো করতে হচ্ছে। বেলডাঙায় অভিষেকের রোড শো প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, “আমি চাইব উনি আসুন। ওনার সভায় কত লোক হয়, দেখব। তার পর ১৯ তারিখ আমি ডবল লোক নিয়ে সভা করব। আমার টার্গেট ১০ লাখ।”

তৃণমূলের একাংশ তাঁকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করছে এই প্রশ্নে হুমায়ুন কবীরের জবাব আরও তীব্র। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের কিছু নেতা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে তোলাবাজি করেন এবং তাঁরাই এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। হুমায়ুনের কথায়, “আমি যখন ১৮২টা আসনে প্রতিদিন প্রচারে নামব, তখন কে এ-টিম, কে বি-টিম, কে সি-টিম তার রায় মানুষই দেবে।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “ও গরিবের রক্ত চুষে খায়।” তাঁর দাবি, অভিষেককে বেলডাঙায় রোড শো করতে আসতেই হচ্ছে তাঁর চাপে। ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে ভিড়ের তুলনা করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ভবানীপুর বা নন্দীগ্রাম থেকে না লড়ার শর্তও সামনে রাখেন হুমায়ুন।

এই সব মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসও আক্রমণ শানিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে নাম না করে ধর্মের নামে রাজনীতি ছাড়ার বার্তা দিয়েছিলেন। তারই জবাবে হুমায়ুন কবীর আরও তীক্ষ্ণ ভাষায় পাল্টা বক্তব্য রাখেন।

সব মিলিয়ে, নতুন দল ঘোষণার এক মাসের মধ্যেই ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়ে এবং শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট করে দিয়েছেন ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে তিনি রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত ও আলোচিত মুখ হয়ে উঠতে চলেছেন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements