‘গভীর সমস্যায় আছি!’ সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক হিমন্ত

himanta-biswa-sarma-assam-demographic-warning

নয়াদিল্লি: সংবাদ মাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকারে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন অসমে ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন রাজ্যে হিন্দুরা বিপদে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আমাদের রাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে।

বহু বছর ধরে অনিয়ন্ত্রিত অনুপ্রবেশের কারণে অসমে সক্রিয় ‘ডেমোগ্রাফিক ইনভেশন’ চলছে। যা একসময় ৯০% হিন্দু জনসংখ্যা ছিল, তা এখন ক্রমশ পাল্টে ৬০-৪০ এর দিকে চলে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে আমরা শেষ হয়ে যাব।”

   

চিন্তা বাড়াচ্ছে টপ অর্ডার! জঘন্য হারে দৌড় থামল ভারতের

তাঁর এই মন্তব্য স্বভাবতই তুমুল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন রাজ্যের জনসংখ্যার বৈশিষ্ট্য বদলে দিচ্ছে। কিছু জেলায় ধর্মীয় অনুপাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অস্তিত্বও সংকটে পড়তে পারে। হিমন্ত দাবি করেন, বহু দশক ধরে চলা এই পরিবর্তন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অসমবাসী নিজেদের জমি, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন।

তাঁর মতে, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয় “এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। যারা অসমকে ভালোবাসেন, তাদের সবাইকে বুঝতে হবে—এখনই ব্যবস্থা না নিলে রাজ্যের পরিচিতিই বদলে যাবে,” বলেন শর্মা। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন যে তাঁর সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। অসম সরকার বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাসিন্দাদের নথি ডিজিটাল যাচাই শুরু করেছে, যাতে অবৈধ প্রবেশকারীদের শনাক্ত করা যায়।

রাষ্ট্রীয় জমি, বনভূমি বা জলাশয়ে অননুমোদিত বসতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চলছে। সীমান্ত নজরদারি বাড়ানো বাংলাদেশ সীমান্তে BSF ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। সংখ্যালঘু অঞ্চলে শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন তিনি বলেছেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেও শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাড়িয়েছে, যাতে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য প্রাকৃতিকভাবে বাড়ে।

হিমন্তর বক্তব্য যে তর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। বহু বছর ধরে অসমে অবৈধ অভিবাসন একটি বাস্তব সমস্যা। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। ডেমোগ্রাফি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক সৃষ্টি সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে। সংখ্যাগত দাবি নির্দিষ্ট গবেষণা বা সরকারি ডেটার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। তবে হিমন্তর অবস্থান স্পষ্ট। তিনি বলেন “অসমের নিরাপত্তা, সংস্কৃতি এবং demography রক্ষা করা আমার কর্তব্য।”

অসমের ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন নিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্য নতুন করে জাতীয় রাজনীতিতে তর্কের জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু সংখ্যার পরিবর্তন নয় এটি পরিচয়, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের গভীর উদ্বেগের প্রতিফলন। আগামী দিনে এই বিষয়টি রাজ্যের নীতি, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নেবে এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন