
স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, শ্রমিক আন্দোলনের ঐতিহ্য এবং সমসাময়িক রাজনীতির মিলনমঞ্চ হয়ে উঠল হলদিয়া (Suvendu Adhikari)। ভারতীয় মজদুর সংঘের (BMS) উদ্যোগে আয়োজিত এক পদযাত্রা ও স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামী শ্রী সতীশ চন্দ্র সামন্তের মূর্তি উন্মোচন, যা অনুষ্ঠিত হয় হলদিয়ার ভারতীয় মজদুর সংঘ কার্যালয়ে। উপলক্ষ তাঁর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী।
হলদিয়া–কলকাতা পোর্ট ও ডক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শ্রমিক, ইউনিয়ন প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। পদযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়, যেখানে শ্রমিকদের অধিকার, ঐতিহ্য এবং আত্মমর্যাদার বার্তা তুলে ধরা হয়। পদযাত্রা শেষে সতীশ চন্দ্র সামন্তের মূর্তি উন্মোচনের মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
যুবভারতী-কাণ্ডে হাই কোর্টে মামলা, ED–CBI তদন্ত, টিকিটের টাকা ফেরতের দাবি
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সতীশ চন্দ্র সামন্ত ছিলেন শুধু একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নন, তিনি ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর তথা হলদিয়ার আধুনিক রূপকারদের অন্যতম। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক সাহসী ও ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে সতীশ চন্দ্র সামন্ত যে আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
শুভেন্দু আরও বলেন, “সতীশ চন্দ্র সামন্ত ছিলেন তামলুক লোকসভা কেন্দ্রের প্রথম নির্বাচিত সাংসদ। স্বাধীনতার পর তিনি শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করেছিলেন।” বক্তৃতায় বিশেষভাবে উঠে আসে হলদিয়া বন্দরের রূপকার হিসেবে তাঁর অবদানের কথা। শিল্প, বন্দর এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে কীভাবে একটি অঞ্চলকে অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করা যায় সেই দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ ছিলেন তিনি।
ভারতীয় মজদুর সংঘের নেতৃত্ব জানান, সতীশ চন্দ্র সামন্ত শ্রমিক সমাজের কথা সর্বদা গুরুত্ব দিয়ে ভাবতেন। বন্দরের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। তাই তাঁর জন্মবার্ষিকীতে এই পদযাত্রা ও মূর্তি উন্মোচন শুধু শ্রদ্ধার অনুষ্ঠান নয়, বরং শ্রমিক আন্দোলনের আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়াস।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রমিক নেতারা বলেন, আজকের দিনে যখন শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, তখন সতীশ চন্দ্র সামন্তের আদর্শ আরও প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, দেশপ্রেম ও শ্রমিক কল্যাণ একে অপরের পরিপূরক।
মূর্তি উন্মোচনের পর শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয় এবং সতীশ চন্দ্র সামন্তের জীবন ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করা হয়। উপস্থিত জনতার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই বলেন, এই ধরনের অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে এবং আত্মত্যাগের মূল্য বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হলদিয়ায় ভারতীয় মজদুর সংঘের এই পদযাত্রা ও স্মরণানুষ্ঠান তাই শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং স্বাধীনতা সংগ্রাম, শ্রমিক আন্দোলন এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের ইতিহাসকে একসূত্রে বেঁধে রাখার এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে রইল।










