
নয়াদিল্লি: রবিবার বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নীতিন নবীন (BJP President’s Comment)। সভাপতি হয়েই তিনি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বলেছেন বাংলা জয় সহজ ব্যাপার। এই মন্তব্যেই সরব হয়েছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ মন্তব্য করেন নীতিন নবীন একজন ট্রেনি সভাপতি। তিনি আরও বলেন যে নয়া সভাপতির অভিজ্ঞতার অভাব আছে।
নীতিন নবীন বিহারের নীতীশ কুমার সরকারে সড়ক নির্মাণ মন্ত্রী এবং পাটনার বাঁকিপুর আসন থেকে পাঁচবারের বিধায়ক। তাঁর বাবা প্রয়াত নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহাও ছিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা ও বিধায়ক। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা নবীন যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি থেকে জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ছত্তীসগড়ে দলের নির্বাচনী ইনচার্জ হিসেবে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
MGNREGA থেকে ‘গান্ধী’–‘বাপু’ বাদ, সুকৌশলে রাম নাম? কটাক্ষ কুণালের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “নীতিন নবীন একজন কঠোর পরিশ্রমী কর্মী। তাঁর উদ্যম ও নিষ্ঠা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।” অমিত শাহও তাঁকে ‘যুব ও গতিশীল নেতা’ বলে প্রশংসা করেছেন।কিন্তু সভাপতি হওয়ার পরই নবীনের বাংলা নিয়ে মন্তব্য রাজনৈতিক ঝড় তুলেছে। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন।
২০২১ সালে বিজেপি ৭৭টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের কাছে বড় ব্যবধানে হার মেনেছে। এখনও দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। নবীনের ‘বাংলা জয় সহজ’ মন্তব্যকে তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ করেছেন। কুনাল বলেন, “নীতিন নবীন একজন ট্রেনি সভাপতি। তাঁর অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট। বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পাশে আছেন।
বিজেপির এই স্বপ্ন দেখা বাংলায় কোনও কাজে আসবে না।” তৃণমূলের অন্য নেতারা বলছেন, এটা বিজেপির হতাশার প্রকাশ। বাংলায় বিজেপির ভোট শেয়ার কমছে, সাংগঠনিকভাবে দুর্বল।বিজেপির তরফে নবীনের মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন রাজ্য নেতারা। তারা বলছেন, দলের বুথ লেভেলের সংগঠন এতটাই শক্তিশালী যে বাংলা সহ সব রাজ্যেই জয় সম্ভব।
নবীন নিজে বলেছেন, “বিজেপির কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করেন। অন্য দল নির্বাচনের সময় কাজ করে, কিন্তু আমরা সবসময়।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নবীনের এই মন্তব্য দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা, কিন্তু বাংলায় বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তৃণমূলের দাপট, সিএএ-এনআরসি ইস্যুতে মাইনরিটি ভোটের দূরত্ব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল—এসব কাটিয়ে উঠতে হবে। নবীনের যুব ছবি এবং পূর্ব ভারত থেকে আসা হওয়ায় বাংলা-আসামে নতুন কৌশল আনতে পারেন বলে আশা করছে দল।










