গুয়াহাটি: অসমের মহিলাদের জন্য নতুন বছরের শুরুতেই একটা বড় উপহার এল (Assam)। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ১ জানুয়ারি, ২০২৬-এর নতুন বছরের প্রেস কনফারেন্সে ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যের অরুণোদয় স্কিমের (Orunodoi Scheme) অধীনে ৩৭ লক্ষেরও বেশি মহিলা উপভোক্তা আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ৮,০০০ টাকা পাবেন।
এটাকে তিনি ‘অগ্রিম বোহাগ বিহু উপহার’ বলে উল্লেখ করেছেন, যাতে মা-বোনেরা বিহু উৎসব আরও আনন্দে উদযাপন করতে পারেন।অরুণোদয় স্কিম অসম সরকারের অন্যতম বৃহত্তম মহিলা কল্যাণ প্রকল্প। এর অধীনে দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের মাসিক আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতি মাসে ১,২৫০ টাকা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) করে দেওয়া হয়।
ঘরের মাঠে সিরিজ হেরে ঘরোয়া পরীক্ষায় দুই তারকা, কি শাস্তি বোর্ডের ?
কিন্তু নির্বাচনের আগে সাধারণত এই টাকা বিতরণ নিয়ে বিতর্ক হয় বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তাই জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত মাসিক কিস্তি দেওয়ার পরিবর্তে, ২০ ফেব্রুয়ারিতে একবারে ৮,০০০ টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে জানুয়ারি-এপ্রিলের ৫,০০০ টাকা (৪ মাস × ১,২৫০) এবং অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা বিশেষ বিহু উপহার।
মার্চ-এপ্রিলে স্কিম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে, মে মাস থেকে আবার নিয়মিত শুরু হবে।এই ঘোষণা অসমের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু করেছে। বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকে দেখছেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (২০২৬) আগে মহিলা ভোটারদের মন জয় করার মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনের সময় মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট চালু হলে এই ধরনের বিতরণ নিয়ে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে।
তাই আগেভাগেই এককালীন টাকা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে মহিলারা নিজেদের মতো করে বিহু উদযাপন করতে পারেন পোশাক কিনতে, বাজার করতে, পরিবারকে খুশি করতে।একজন উপভোক্তা মহিলা বলেছেন, “এটা খুব বড় খবর। মামার এই উপহার দিয়ে আমরা ছেলেমেয়েদের জন্য নতুন কাপড় কিনব, বিহুকে আরও জাঁকজমক করে উদযাপন করব।”
রাজ্যজুড়ে মহিলাদের মধ্যে এই ঘোষণায় খুশির হাওয়া বইছে। অরুণোদয় স্কিম শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে, প্রথমে ৮৩০ টাকা মাসিক, পরে বাড়িয়ে ১,০০০, তারপর ১,২৫০। এখন ৩.০ ভার্সনে আরও বেশি মহিলা যুক্ত হয়েছে। সরকারের দাবি, এই স্কিম দারিদ্র্য দূরীকরণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী নতুন বছরে আরও একটা স্কিম ঘোষণা করেছেন ‘বাবু অসনি’। ফেব্রুয়ারি থেকে উচ্চশিক্ষায় পড়ুয়া ছেলেদের জন্য মাসিক ১,০০০ (স্নাতক) এবং ২,০০০ টাকা (স্নাতকোত্তর) দেওয়া হবে। এতে মেয়েদের নিয়ে চালু ‘নিজুত মইনা’ স্কিমের সঙ্গে ভারসাম্য আনা হচ্ছে।
