সতনা: মধ্যপ্রদেশের সতনা জেলায় একটি বিতর্কিত ধর্মান্তরণ র্যাকেটের অভিযোগে বড় অভিযান চালানো হয়েছে (Madhya Pradesh)। ৬৮ বছরের আব্দুল রহমান (ওরফে লালমন চৌধুরী), তার ছেলে বিজয় ভারতী (ওরফে মোহাম্মদ উমর, ৩২) এবং ভাইপো দীনানাথ চৌধুরী (ওরফে আব্দুল্লাহ, ৪২)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই তিনজনের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ ধর্ম স্বাধীনতা আইনের ধারা ৩ ও ৫ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ধারা ২৯৯-এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ, তারা বিদেশি ফান্ড ব্যবহার করে অবৈধভাবে ধর্মান্তরণের কাজ চালাচ্ছিলেন এবং একটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে অবৈধ মসজিদ চালু করেছিলেন।ঘটনাটি ঘটেছে সতনার একটি গ্রামে। পঙ্কজ পাঠক নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, আব্দুল রহমানের নেতৃত্বে একটা সংগঠিত র্যাকেট চলছিল যা বিদেশি অর্থের সাহায্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে লক্ষ্য করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করছিল।
আরও দেখুন: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনে মৌলবাদীদের সঙ্গে হাত মেলাল সেনাবাহিনী
এই কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল একটা অবৈধ স্থাপনা, যা অনেকে ‘অবৈধ মসজিদ’ বলে উল্লেখ করেছেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো প্রতিবাদে নামে। ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়, ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ স্থাপনাটি সিল করে দেয় এবং পরে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রেমলাল কুরভে জানিয়েছেন, “অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
বিদেশি ফান্ডের লিঙ্ক খুঁজে বের করা হচ্ছে।” স্থানীয় সূত্র বলছে, এই স্থাপনা হিন্দু গ্রামের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল। প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, এটা শুধু ধর্মান্তরণের কেন্দ্র নয়, বরং সমাজে অশান্তি ছড়ানোর হাতিয়ার। প্রতিবাদের চাপে প্রশাসন দ্রুত অ্যাকশন নেয় এবং বিতর্কিত স্থাপনাটি ধ্বংস করে।এই ঘটনা মধ্যপ্রদেশে ধর্মান্তরণ-বিরোধী আইনের কড়া প্রয়োগের একটা উদাহরণ।
রাজ্যে এই আইন ২০২১ সাল থেকে কার্যকর, যা জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরণকে অপরাধ বলে গণ্য করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এমন অনেক কেসে অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি ফান্ডের লিঙ্ক পাওয়া গেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই কেসে অভিযুক্তরা বিদেশি অর্থের মাধ্যমে কাজ চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে।
তারা বলছেন, “এটা সমাজ রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ। অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে।” অন্যদিকে, কিছু মানবাধিকার সংগঠন এই ধরনের অভিযানকে ‘অতিরিক্ত’ বলে সমালোচনা করেছে, দাবি করে যে এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সবকিছু আইনের মধ্যে থেকেই করা হয়েছে।




















