কলকাতা: ব্যারাকপুর জনসভা থেকে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য ৩১ মার্চের ডেডলাইন মনে করলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন এই দিনের মধ্যে বেড়া দেওয়ার জমি না দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন দিনের পর দিন মমতা সরকার ঘুসপেটদের মদত দিয়ে চলেছেন। ব্যারাকপুরের জনসভায় হাজার হাজার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, “দিনের পর দিন মমতা সরকার ঘুসপেটিয়াদের মদত দিয়ে চলেছে।
সীমান্তের বড় অংশ অরক্ষিত রেখে তারা ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কেন্দ্র সাতবারেরও বেশি চিঠি দিয়েছে, হোম সেক্রেটারি নিজে গিয়েছেন, কিন্তু রাজ্য সরকার জমি দিতে রাজি হয়নি। ফলে সীমান্তের প্রায় ৫৬৩ কিলোমিটার অংশে এখনও কাঁটাতার বসানো যায়নি। এই অবহেলা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে তিনি দাবি করেন।
বিপুল সংখ্যক পদের জন্য শূন্যপদ ঘোষণা করেছে ব্যাংক অফ বরোদা, আবেদন করুন
এই ইস্যুর পিছনে আসলে কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশও রয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে, সীমান্তের নয়টি জেলায় কাঁটাতার বসানোর জন্য যে জমি কেন্দ্র অধিগ্রহণ করে টাকা দিয়েছে, সেই জমি ৩১ মার্চ ২০২৬ এর মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে। কোনও বিলম্ব করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশকে অমিত শাহ আজ ব্যারাকপুরের মঞ্চ থেকে আরও জোরালো করে তুলে ধরলেন।
তিনি বলেন, “আদালত যা বলেছে, তা মানতেই হবে। না মানলে কেন্দ্র কী করবে, সেটা সবাই বুঝতে পারছে।”এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে এসব অভিযোগকে পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। তৃণমূলের নেতারা বলছেন, এটা বিজেপির নির্বাচনী কৌশল মাত্র। কয়েকদিন আগেই মমতা নিজে বলেছিলেন যে, পেট্রাপোল, আন্দালসহ কয়েকটি জায়গায় জমি দেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, সীমান্তের দায়িত্ব বিএসএফ-এর, কেন্দ্রের। রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করে বিজেপি শুধু ভোটের রাজনীতি করছে। তবে শাহের আজকের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিজেপি এই ইস্যুকে আরও তীব্র করে তুলতে চাইছে। ব্যারাকপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে, যেখানে হিন্দি-ভাষী ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, সেখানে এই ধরনের জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে বিজেপি মেরুকরণের চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।




















