
আগরতলা: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ এবার ছড়িয়ে (Agartala protest)পড়ল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় শুক্রবার বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভে সামিল হল যুব টিপরা ফেডারেশন (YTF)। এই সংগঠনটি টিপরা মোথা পার্টির (TMP)-র যুব শাখা হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকে ঘিরে বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
বিক্ষোভস্থলে YTF-এর সভাপতি সুরজ দেববর্মা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “গত দুই থেকে তিন দিন ধরে বাংলাদেশের একাধিক নেতা উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে যেভাবে মন্তব্য করছেন, তা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। আমরা ভারতের দায়িত্বশীল নাগরিক। আমাদের দেশ, আমাদের ভূমি এবং আমাদের মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই প্রতিবাদ কেবল রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ধরনের বার্তা।
১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাইকের দাম বাড়াচ্ছে BMW
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের হিংসা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই সঙ্গে কিছু বাংলাদেশি রাজনৈতিক মহল থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। এই আবহেই আগরতলার বিক্ষোভ নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের সংবেদনশীলতায়।
YTF নেতৃত্বের দাবি, তারা কোনও বিদেশ-বিরোধী বিদ্বেষ ছড়াতে চান না, কিন্তু সীমান্তের ওপার থেকে যদি ভারতের অখণ্ডতা বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তাহলে চুপ করে থাকা সম্ভব নয়। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং ভারত সরকারের কাছে কড়া কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়ার দাবি তোলেন।
ত্রিপুরা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের নিরাপত্তা বাড়ানো হয় এবং আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি জমা দেওয়ার আবেদন জানায়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিবাদ কেবল ত্রিপুরা বা টিপরা মোথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু নির্যাতন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।টিপরা মোথা দীর্ঘদিন ধরেই আদিবাসী অধিকার ও আঞ্চলিক স্বার্থের প্রশ্নে সরব, ফলে এই ইস্যুতে তাদের রাস্তায় নামা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লির ভূমিকা কী হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতার প্রভাব যাতে ভারতের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সামাজিক ভারসাম্যে না পড়ে, সে জন্য কেন্দ্র সরকারকে সতর্ক ও সক্রিয় হতে হবে। আগরতলার এই প্রতিবাদ সেই সতর্কবার্তাই যেন আরও জোরালো করে তুলে ধরল—পদ্মাপারের আগুন সীমান্ত পেরিয়ে এলে তার অভিঘাত যে কতটা গভীর হতে পারে, তা আর উপেক্ষা করার জায়গা নেই।










