
জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার নৌশেরা সেক্টরে লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC) বরাবর ভারতীয় সেনা সন্দেহজনক পাকিস্তানি ড্রোন দেখে মাঝারি ও হালকা মেশিনগান দিয়ে গুলি চালিয়েছে। রবিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে, যার পর সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সীমান্ত (IB) এবং LoC-এর বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ৫টি ড্রোন দেখা গেছে বলে সূত্রের খবর।
সেনা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ গানিয়া-কালসিয়ান গ্রামের উপর দিয়ে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। এটি পাকিস্তানের দিক থেকে এসে ভারতীয় এলাকায় কিছুক্ষণ ঘুরে ফিরে আবার ফিরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে নৌশেরা সেক্টরের ভারতীয় সেনা মাঝারি ও হালকা মেশিনগান দিয়ে গুলি চালায়।
কোহলি-হর্ষিতের ক্যামিওতে কিউয়ি বধে ১-০ এগিয়ে ভারত
একই সময়ে রাজৌরির তেরিয়াথ এলাকার খব্বর গ্রামের উপর আরেকটি ড্রোন দেখা যায়, যাতে ব্লিঙ্কিং লাইট ছিল। এটি কালাকোটের ধর্মসাল গ্রামের দিক থেকে এসে ভারাখের দিকে যাচ্ছিল।এছাড়া সাম্বা জেলার রামগড় সেক্টরে চাক বাবরাল গ্রামের উপর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ নাগাদ একটি ড্রোন-জাতীয় বস্তু কয়েক মিনিট ধরে ঘুরতে দেখা যায়।
পুঞ্চ জেলার মানকোট সেক্টরে তাইন থেকে টোপার দিকে আরেকটি সন্দেহজনক ড্রোনের গতিবিধি ধরা পড়ে। সবকটি ড্রোনই পাকিস্তানের দিক থেকে এসে ভারতীয় ভূখণ্ডে সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়ে ফিরে গেছে বলে জানা যায়।এই ঘটনার পর সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহজনক এলাকায় মাটিতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
উদ্দেশ্য কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ বা অন্য কোনো বিপজ্জনক সামগ্রী ড্রোনের মাধ্যমে ফেলা হয়েছে কি না তা খুঁজে বের করা। গত কয়েকদিনে এই ধরনের ড্রোন অভিযান বেড়েছে। মাত্র দু’দিন আগে সাম্বা জেলার পালুরা গ্রামে পাকিস্তানি ড্রোন থেকে ফেলা অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ছিল চাইনিজ হ্যান্ড গ্রেনেড, গ্লক পিস্তল, স্টার পিস্তলসহ বিভিন্ন গোলাবারুদ।
এসব ঘটনা সীমান্তে ড্রোনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশ ও অস্ত্র সরবরাহের নতুন হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।ভারতীয় সেনা এই ধরনের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অতীতে একাধিকবার পাকিস্তানি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। এবারও গুলি চালানোর পর ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় হয়েছে কি না তা নিশ্চিত না হলেও, সেনা সূত্র বলছে যে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সীমান্তে সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।










