‘প্রধানমন্ত্রী হবে হিজাব পরা মেয়ে !’ দাবি ওআইসির

owaisi-hijab-wearing-woman-prime-minister

গতকাল মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে এক নির্বাচনী (Owaisi)সভায় দাঁড়িয়ে এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি একটি শক্তিশালী ও আবেগময় বক্তব্য রেখেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। তিনি বলেছেন, “পাকিস্তানের সংবিধান স্পষ্টভাবে বলে যে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীই সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধান বলে, ভারতের যেকোনও নাগরিক প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মেয়র হতে পারেন।

এটা আমার স্বপ্ন যে একদিন এমন একটা দিন আসবে যখন হিজাব পরা এক কন্যা এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।”ওয়াইসির এই মন্তব্য ভারতীয় সংবিধানের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে তুলে ধরে পাকিস্তানের সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভারতের সংবিধান ধর্ম, লিঙ্গ, জাতি বা পোশাকের ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য করে না। যেকোনও নাগরিক, যতই তাঁর পরিচয় বা বিশ্বাস ভিন্ন হোক না কেন, সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার অধিকার রাখেন।

   

ফুটপাথে ‘মৃত্যুদূত’! মদ্যপ অবস্থায় পিষে দিল ১৬ জনকে, মৃত এক

এই কথাগুলো বলার সময় ওয়াইসি বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই সংবিধানই ভারতকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক দেশ বানিয়েছে।এই বক্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। বিজেপি নেতা নীতেশ রানে তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে এমন কোনও সম্ভাবনা নেই এবং ওয়াইসিকে “করাচি চলে যাও” বলে কটাক্ষ করেন।

অন্যদিকে এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠান এই আক্রমণের জবাবে বলেন, “ওয়াইসি কী ভুল বলেছেন? তিনি শুধু বলেছেন যে আমাদের ইচ্ছা একদিন হিজাব পরা এক নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভারতের সংবিধানই এদেশ শাসন করে, এবং এতে কেউ কাউকে বাধা দেয় না।” পাঠান আরও বলেন যে কোনও হুমকি তাঁদের ভয় দেখাতে পারবে না।ওয়াইসির এই স্বপ্নের কথা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণাদায়ক হয়েছে।

বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মহিলাদের মধ্যে এটি একটি নতুন আশার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, এই মন্তব্য ভারতের বৈচিত্র্যময় সমাজে নারী ক্ষমতায়ন ও ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তুলেছে। হিজাবকে শুধু একটি পোশাক নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন তিনি।

তবে এই বিবৃতি বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ বলছেন এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার সত্যিকারের পরীক্ষা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয় নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। কেউ প্রশংসা করছেন ওয়াইসির সাহসের, কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন যে এমন স্বপ্ন কতটা বাস্তবসম্মত।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন