
রাজ্য বিধানসভায় (State Assembly) তীব্র উত্তেজনার ছবি ধরা পড়ল। ঋণ বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শাসক দলের মধ্যেই একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে প্রকাশ্যে বিতর্ক শুরু হয়। অধিবেশন কক্ষে একসময় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, স্বাভাবিক প্রশ্নোত্তর ও আলোচনার পর্ব ব্যাহত হয়। উন্নয়নমূলক কাজ এবং সামাজিক ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সরকারের ভূমিকা ঘিরে এদিন বিধানসভায় তর্ক-বিতর্কই হয়ে ওঠে মূল বিষ
বিতর্কের সূত্রপাত হয় একাধিক বিধায়ক অভিযোগ তোলেন যে, রাজ্যের কিছু নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা নিয়মিতভাবে দেওয়া হলেও অন্য কয়েকটি এলাকা বারবার বঞ্চিত হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ হওয়ার কথা, তা সমানভাবে সব এলাকায় পৌঁছচ্ছে না। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার জন্য ঘোষিত ঋণ প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই শাসক দলের অভ্যন্তরে মতভেদ প্রকাশ্যে আসে।
এক পক্ষের বিধায়কদের দাবি ছিল, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে কিছু এলাকাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মতে, সরকার যদি সামাজিক ন্যায় ও সমান উন্নয়নের কথা বলে, তাহলে ঋণ বিতরণেও সেই নীতির প্রতিফলন ঘটতে হবে। অন্যদিকে, শাসক দলের অপর অংশ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে। তাঁদের বক্তব্য, ঋণ ও তহবিল বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও পরিমাপ রয়েছে এবং সেই অনুযায়ীই অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই অধিবেশনে হস্তক্ষেপ করেন দলের প্রবীণ নেতৃত্ব। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছে এবং সম্পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেই কাজ করবে। নেতৃত্বের মেয়াদ নিয়ে কোনও প্রশ্ন বা জল্পনার অবকাশ নেই বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ মতভেদ থাকতেই পারে, তবে তা সরকারের স্থায়িত্ব বা নীতিগত অবস্থানকে দুর্বল করে না।
প্রবীণ নেতৃত্ব আরও বলেন, উন্নয়ন তহবিল ও ঋণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের উপকার করা। কোনও বিশেষ কেন্দ্র বা গোষ্ঠীকে বঞ্চিত করার প্রশ্নই ওঠে না। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, যদি কোথাও প্রশাসনিক ত্রুটি বা অসঙ্গতি থেকে থাকে, তাহলে তা খতিয়ে দেখা হবে। বিধায়কদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিতর্ক চলাকালীন একাধিক বিধায়ক বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তাঁদের রয়েছে। তাঁদের মতে, বিধানসভা হল মানুষের সমস্যার কথা বলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। সেখানে উন্নয়ন তহবিলের অসম বণ্টন বা সামাজিক ন্যায় বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা তুলে ধরা সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এই বক্তব্যকে ঘিরেই অধিবেশনে শোরগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে শাসক দলের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের মধ্যে ঐক্যের অভাবের ফলেই সাধারণ মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও শাসক দল এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে দাবি করে, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সরকার উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




