
কলকাতা: আমেরিকার ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট (FARA) দাখিল (Operation Sindoor)করা নথিপত্র থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তান ওয়াশিংটনে তীব্র লবিং চালিয়েছে, যাতে ভারতের সামরিক অভিযান থামানোর জন্য প্রায় ৬০ বার অনুরোধ করা হয়েছে। এই অভিযানের পর ইসলামাবাদ যেন ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল এমনটাই প্রকাশ পাচ্ছে নথিতে।
পাকিস্তান প্রায় ৪৫ কোটি টাকা খরচ করে ছয়টি মার্কিন লবিং ফার্ম নিয়োগ করেছে, যাতে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের কাছে দ্রুত প্রবেশাধিকার পাওয়া যায় এবং ডি-এসকেলেশন ও হস্তক্ষেপের জন্য চাপ দেওয়া যায়।২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নৃশংস সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হন। হামলাকারীরা ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করে হিন্দু পর্যটকদের লক্ষ্য করেছিল।
কাশ্মীর উপত্যকায় বাড়ি বাড়ি চলছে সন্ত্রাসবাদী ফান্ডিংয়ের তল্লাশি
ভারত এর জন্য পাকিস্তান-ভিত্তিক লশকর-ই-তাইয়েবার প্রক্সি গ্রুপ দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টকে দায়ী করে। পাল্টা হিসেবে মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালায় ভারত পাকিস্তান ও পোক-এর ভিতরে সন্ত্রাসী ক্যাম্পগুলোতে নির্ভুল মিসাইল হামলা। এই অভিযানে পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস হয়, কিন্তু ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা চলে।
ঠিক এই সময়েই পাকিস্তানের লবিং যেন ঝড়ের গতিতে বাড়ে। FARA নথি অনুসারে, পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত এবং ডিফেন্স অ্যাটাশে ইমেল, ফোন কল এবং সরাসরি মিটিংয়ের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা, সিনেটর, পেন্টাগন ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকদের সঙ্গে ৬০টিরও বেশি যোগাযোগ করেন।
উদ্দেশ্য একটাই কোনোভাবে ভারতের অভিযান থামানো এবং যুদ্ধ এড়ানো। নথিতে দেখা যাচ্ছে, কাশ্মীর, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, রেয়ার আর্থ মিনারেলস এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মতো বিষয় তুলে ধরে পাকিস্তান চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছে।
নভেম্বর ২০২৫-এ নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুসারে, পাকিস্তান ছয়টি ওয়াশিংটন-ভিত্তিক লবিং ফার্মের সঙ্গে বার্ষিক প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। এপ্রিল-মে মাসে লবিং খরচ তিনগুণ বাড়ে, যা ভারতের তুলনায় অনেক বেশি। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তান প্রায় ৪৫ কোটি রুপি খরচ করে এই ফার্মগুলো নিয়োগ করে, যাতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে প্রভাব বিস্তার করা যায়। এতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মতো নেতাদেরও হোয়াইট হাউসে মিটিংয়ের ব্যবস্থা হয়।










