শহীদ দিবসে স্মারক ক্ষেত্র উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

swahid-smarak-kshetra-inauguration-assam-cm-himanta-biswa-sarma

গুয়াহাটি, ১০ ডিসেম্বর: আজ অসমের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত আবেগঘন দিন (Swahid Smarak Kshetra)। অসম আন্দোলনের শহিদ দিবসে, রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটির বরাগাঁওয়ে উদ্বোধন হলো ‘স্বাহিদ স্মারক ক্ষেত্র’। এই স্মারক ক্ষেত্র অসম আন্দোলনের (১৯৭৯-১৯৮৫) সময় যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি রাজ্যের চিরস্থায়ী শ্রদ্ধার্ঘ্য।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, কৃষি ও পশুপালন মন্ত্রী অতুল বড়া, জলসম্পদ মন্ত্রী কেশব মহন্ত এবং শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারী-সহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য, আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, শহিদ পরিবারের সদস্যরা এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।সকাল থেকেই বরাগাঁওয়ের আকাশে ছিল এক অন্যরকম নীরবতা।

   

২.৪৫ কোটি নগর ভোটার অনুপস্থিতি, বিজেপির নির্বাচনী পরিকল্পনায় ধাক্কা

যেন অসম আন্দোলনের সেই রক্তাক্ত দিনগুলো আবার ফিরে এসেছে। ১৯৮৩ সালের ১০৯ ডিসেম্বর খরিজ নামের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ১০ ডিসেম্বরকে অসম শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে। আজ ঠিক সেই দিনে, ৪২ বছর পরে, অসম সরকার অসম আন্দোলনের ১৩২১ জন শহিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই বিশাল স্মারক ক্ষেত্র উন্মুক্ত করল।উদ্বোধনের মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আজ আমরা শুধু একটি স্মারক ক্ষেত্রের উদ্বোধন করছি না, আমরা অসমের আত্মসম্মানের একটি অধ্যায়কে চিরকালের জন্য সংরক্ষিত করছি।

যে যুবক-যুবতীরা নিজেদের জীবন দিয়ে অসমের ভাষা, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষা করেছিলেন, তাঁদের ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না। এই স্মারক ক্ষেত্র তাঁদের ত্যাগের একটি জ্বলন্ত সাক্ষী হয়ে থাকবে।”কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, যিনি নিজেও অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আসু) নেতা হিসেবে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন, আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “আজ আমার চোখে জল আসছে। যখন আমরা রাস্তায় নামতাম, তখন কেউ ভাবেনি যে একদিন অসম সরকার নিজেই শহিদদের এত বড় সম্মান দেবে।

এই স্মারক ক্ষেত্র শুধু পাথরের নয়, এটা অসমের হৃদয়ের ভিতরে গড়া।”স্মারক ক্ষেত্রটি প্রায় ১০ বিঘা জুড়ে বিস্তৃত। মাঝখানে রয়েছে একটি উঁচু শহিদ স্তম্ভ, যার গায়ে খোদাই করা আছে ১৩২১ জন শহিদের নাম। চারপাশে রয়েছে সবুজ লন, ফোয়ারা, শহিদদের জীবনের ছবি ও আন্দোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ম্যুরাল। এক কোণে তৈরি হয়েছে একটি আধুনিক মিউজিয়াম, যেখানে অসম আন্দোলনের দলিল-দস্তাবেজ, ছবি, অস্ত্র, পোস্টার, রক্তমাখা পোশাক—সব সংরক্ষিত থাকবে।

রাতে আলোকসজ্জায় পুরো ক্ষেত্র যেন এক জ্যোতির্ময় তীর্থক্ষেত্রে রূপান্তরিত হয়।অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এক শহিদ মাতা চোখ মুছতে মুছতে বললেন, “আমার ছেলে ১৯ বছর বয়সে গুলি খেয়ে মারা গিয়েছিল। আজ মনে হচ্ছে সে ফিরে এসেছে।”অনুষ্ঠান শেষে ‘জয় আই অসম’ ধ্বনিতে মুয়াহাটি শহর মুখরিত হয়ে ওঠে।

হাজার হাজার মানুষ ফুল দিয়ে শহিদ স্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান। অনেকে বলছিলেন, এই স্মারক ক্ষেত্র শুধু স্মৃতির জায়গা নয়, এটা আগামী প্রজন্মের কাছে অসমের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের প্রেরণা হয়ে থাকবে।আজকের এই উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে অসম আন্দোলনের শহিদরা যেন আবার বেঁচে উঠলেন অসমের হৃদয়ে—চিরকালের জন্য।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন