
গুয়াহাটি: গুয়াহাটিতে শহিদ স্মারক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শ্রদ্ধার্পণ (Modi tribute at Swahid Smarak Kshetra)অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আবেগে ভেসে গেল আসাম। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক আবেগঘন বার্তায় অতীতের অন্ধকার অধ্যায় ও বর্তমানের উন্নয়নের স্পষ্ট তুলনা টানলেন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা দীর্ঘ বার্তায় তিনি শুধু একজন মুখ্যমন্ত্রী নন, বরং একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবেও তুলে ধরলেন অসমের যন্ত্রণা, লড়াই ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লেখেন, শহিদ খরগেশ্বর তালুকদারের আবক্ষ মূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মাল্যদান তাঁর কাছে এক গভীর আবেগের মুহূর্ত। সেই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন আসামের ইতিহাসের সেই “অন্ধকার দিনগুলির” কথা, যখন কংগ্রেস শাসনের আমলে রাজ্যকে একাধিক সংকটের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। অবৈধ অনুপ্রবেশকে প্রশ্রয় দেওয়া, ভূমিপুত্রদের উপর গণহত্যা, আর্থিক দুরবস্থার দিকে রাজ্যকে ঠেলে দেওয়া এই সবকিছুকেই তিনি সেই সময়ের কংগ্রেস সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
অগ্নিবীরদের জন্য সুখবর, বিএসএফের নিয়োগে কোটা ১০ শতাংশ থেকে হল ৫০ শতাংশ
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আজকের অসম সেই অতীতের সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। এখন রাজ্যের মানুষ উন্নয়ন উদযাপন করছে। শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে উত্তর-পূর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুধুমাত্র প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন না, বরং অসমের মানুষের আত্মত্যাগ, সংস্কৃতি রক্ষা এবং পরিচয়ের লড়াইকেও গভীরভাবে সম্মান জানাচ্ছেন। শহিদ স্মারক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সেই প্রতীকী শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও বলেন, দেশের আগের কোনও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে এতটা সময়, গুরুত্ব ও পরিকল্পনা নিয়ে আসামের উন্নয়নে মনোযোগ দেননি। অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্প বিনিয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। তিনি দাবি করেন, “ডাবল ইঞ্জিন সরকার”-এর ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে আসাম আজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
এই বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী নিজেকেও এই পরিবর্তনের যাত্রার এক ক্ষুদ্র অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে আসামের নবজাগরণে অংশ নিতে পারা তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। শান্তি ও স্থায়িত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আসামকে আবার দ্রুত উন্নয়নের পথে ফেরানোই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্য শুধুই আবেগপ্রকাশ নয়, বরং আগামী দিনের রাজনৈতিক বার্তারও ইঙ্গিত। একদিকে কংগ্রেস আমলের কঠোর সমালোচনা, অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরে আসামের জনগণের সামনে একটি স্পষ্ট তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সব মিলিয়ে, শহিদ স্মারক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্পণ এবং মুখ্যমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা আসামের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকল।










