জাতীয় সভাপতি নির্বাচনে বড় চমক বিজেপির

নয়াদিল্লি: ভারতীয় জনতা পার্টির (Nitin Nabin BJP National Working President) সংগঠনে বড়সড় রদবদলের আবহে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে এল নতুন এক নাম। বিহারের অভিজ্ঞ নেতা নীতিন…

nitin-nabin-bjp-national-working-president-modi-praise

নয়াদিল্লি: ভারতীয় জনতা পার্টির (Nitin Nabin BJP National Working President) সংগঠনে বড়সড় রদবদলের আবহে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে এল নতুন এক নাম। বিহারের অভিজ্ঞ নেতা নীতিন নবীনকে বিজেপির ন্যাশনাল ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট (জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

Advertisements

এই নিয়োগকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে যেমন উৎসাহ দেখা গেছে, তেমনই বিরোধী শিবিরেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। নীতিন নবীনের এই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তিতে তাঁকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

   

এবার আর্টিলারি শেল তৈরি করবে রোবটরা, উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন দেশীয় কোম্পানির

সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, নীতিন নবীন একজন পরিশ্রমী ‘কার্যকর্তা’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি একজন তরুণ, উদ্যমী এবং সংগঠনের ভিত মজবুত করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ নেতা। বিহারে একাধিকবার বিধায়ক এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নীতিন নবীনের ব্যক্তিত্বের দিকটিও তুলে ধরেন মোদী তাঁর কথায়, নিতীন নবীন অত্যন্ত বিনয়ী এবং মাটির কাছাকাছি থেকে কাজ করা নেতা।

প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, নীতিন নবীনের শক্তি, নিষ্ঠা ও কর্মস্পৃহা আগামী দিনে দলকে আরও শক্তিশালী করবে। বিজেপির মতো একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর অন্তর্ভুক্তি দলীয় সংগঠনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নীতিন নবীনের রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বিহারের রাজনীতিতে তিনি পরিচিত একজন দক্ষ সংগঠক এবং মাটির কাছাকাছি থাকা নেতা হিসেবে। বিধায়ক হিসেবে যেমন তিনি মানুষের সমস্যার কথা বিধানসভায় তুলে ধরেছেন, তেমনই মন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতেও তাঁর দক্ষতার পরিচয় মিলেছে। দলের অন্দরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগই তাঁকে জাতীয় স্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপির অন্দরে এই নিয়োগকে ভবিষ্যতের সাংগঠনিক রণকৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির পথে বিজেপি যে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে, তারই ইঙ্গিত মিলছে নীতিন নবীনের মতো নেতাকে জাতীয় স্তরে বড় দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে। বিশেষ করে বিহার এবং পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

নীতিন নবীনের এই নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবরে বিহার বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে বিহারের নেতাদের জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে এনে বিজেপি যে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, নীতিন নবীনের নিয়োগ তারই প্রতিফলন।

সব মিলিয়ে, বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে নীতিন নবীনের অভিষেক শুধু একটি সাংগঠনিক পরিবর্তন নয়, বরং আগামী দিনের রাজনীতিতে দলের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Advertisements