পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা: ৮ মাস পরে আজ চার্জশিট পেশ এনআইএ-র

NIA Charge Sheet J&K Tourist Massacre

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার আট মাসেরও বেশি সময় পরে আজ, মঙ্গলবার জম্মুর বিশেষ এনআইএ আদালতে চার্জশিট পেশ করতে চলেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। এই চার্জশিটে কাশ্মীর উপত্যকাকে নাড়িয়ে দেওয়া সেই ভয়াবহ হামলার নেপথ্য কারিগর, স্থানীয় সহযোগী এবং সীমান্ত-পারের জঙ্গি নেটওয়ার্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসতে চলেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর।

উপত্যকাকে স্তব্ধ করে দেওয়া সেই হামলা

চলতি বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরান উপত্যকায় ঘটে যায় সাম্প্রতিক কালের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। পর্যটকে ভরা মনোরম উপত্যকায় হামলাকারীরা প্রথমে পর্যটকদের ধর্ম জিজ্ঞেস করে বলে অভিযোগ। কয়েকজনকে কালমা পাঠ করতে বাধ্য করার পর শুরু হয় নির্বিচার গুলিবর্ষণ। এই হামলায় প্রাণ হারান ২৫ জন পর্যটক ও এক জন ঘোড়সওয়ার (পনি রাইডার)। কাশ্মীরের পর্যটন মানচিত্রে এই ঘটনা গভীর ক্ষত তৈরি করে।

   

কারা ছিল মূলচক্রী, কারা স্থানীয় সহযোগী NIA Charge Sheet J&K Tourist Massacre

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্জশিটে তিন জন স্থানীয় সহযোগীর নাম উল্লেখ করা হতে পারে। তাঁরা হলেন—বাসির আহমেদ জোথার, পারভেজ আহমেদ জোথার এবং মহম্মদ ইউসুফ কাটারি। অভিযোগ, এই তিন জনই পাকিস্তানি তিন জঙ্গিকে আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছিলেন। ওই জঙ্গিদের নাম সুলেমান শাহ, হামজা আফগানি ওরফে আফগান এবং জিবরান। দীর্ঘ তল্লাশির পর ২৮ জুলাই দাচিগাম জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ওই তিন জঙ্গি নিহত হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, জোথার ভাইরা স্থানীয় বাসিন্দা এবং হামলার আগের রাতে, ২১ এপ্রিল, হিল পার্ক এলাকার একটি কুঁড়েঘরে জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। প্রায় দু’মাস পরে, ২২ জুন তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। পরে গান্ধীনগরের ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে তাঁদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা হয়। সেখান থেকেই পাকিস্তানি নম্বরের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক সূত্র মেলে, যা গোটা জঙ্গি নেটওয়ার্কের ছবি স্পষ্ট করে।

তদন্তের বিস্তৃত পরিসর

এনআইএ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পর্যটক, ঘোড়সওয়ার, ফটোগ্রাফার এবং স্থানীয় দোকানদাররাও রয়েছেন। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে, এই হামলার পিছনে লস্কর-ই-তৈবা এবং তাদের স্থানীয় শাখা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

উল্লেখ্য, তদন্ত সম্পূর্ণ করতে এনআইএ সেপ্টেম্বর মাসে জম্মুর আদালতের কাছে অতিরিক্ত ৪৫ দিনের সময় চেয়েছিল, যা মঞ্জুর হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি জোথার ভাইদের ফের জেরা করা হয়, যাতে বাকি থাকা প্রমাণ যাচাই করা যায়।

‘অপারেশন সিন্দুর’ ও সীমান্ত উত্তেজনা

পহেলগাঁও হামলার পালটা জবাবে ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালানো হয়। পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত ন’টি জঙ্গি ঘাঁটিতে আকাশপথে হামলা চালানো হয়। সরকারি সূত্রের দাবি, এই অভিযানে প্রায় ১০০ জঙ্গি নিহত হয়। এর জেরে চার দিন ধরে সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়—গোলাবর্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া এবং আকাশে সংঘর্ষের পরিস্থিতিও দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ১০ মে দু’দেশের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনার অবসান ঘটে।

চার্জশিটে কী উঠে আসতে পারে

আজ পেশ হতে চলা চার্জশিটে পহেলগাঁও হামলার পূর্ণ বিবরণ, পাকিস্তানি জঙ্গিদের ভূমিকা, স্থানীয় সহযোগীদের কার্যকলাপ এবং ভারতে লস্কর-ই-তৈবার সক্রিয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই চার্জশিট নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচারের পথে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই কাশ্মীরে পর্যটকদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাস চালানোর পূর্ণ পরিকাঠামো উন্মোচনের দিকেও এক বড় পদক্ষেপ।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন