উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) আওরাইয়া জেলায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে, বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় এক ২৫ বছর বয়সী যুবককে তার স্ত্রী ও তার প্রেমিকের নির্দেশে একজন ভাড়াটে খুনি দ্বারা হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় জড়িত স্ত্রী, তার প্রেমিক এবং ভাড়াটে খুনি—তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সাহার থানার এসএইচও পঙ্কজ মিশ্র প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, গত ১৯ মার্চ পুলিশের কাছে খবর আসে যে একটি মাঠে একজন আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে বিধুনার কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে ভর্তি করে এবং তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। আহত ব্যক্তি ছিলেন দিলীপ যাদব, যিনি পরে গুরুতর অবস্থায় সাইফাই হাসপাতালে স্থানান্তরিত হন। তার অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র এবং পরে আগ্রায় নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পরিবার তাকে আওরাইয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে, কিন্তু ২১ মার্চ রাতে তিনি মারা যান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দিলীপ যাদবের বিয়ে হয়েছিল গত ৫ মার্চ। তার স্ত্রী প্রগতি এবং তার প্রেমিক অনুরাগের সঙ্গে মিলে এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। তারা একজন ভাড়াটে খুনিকে নিয়োগ করে দিলীপকে হত্যার জন্য ২ লক্ষ টাকার সুপারি দিয়েছিল। ঘটনাটি ঘটে ১৯ মার্চ, যখন দিলীপকে মাঠে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রগতি ও অনুরাগের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, এবং দিলীপের সঙ্গে বিয়ের পরেও তারা এই সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিল। বিয়ের পর দিলীপকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা এই নৃশংস পরিকল্পনা করে।
পুলিশ জানিয়েছে, দিলীপের মৃত্যুর পর তার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে প্রগতি, অনুরাগ এবং তাদের সহযোগী রামজি নাগর নামে একজনের নাম উঠে আসে। পুলিশ তিনজনকেই গ্রেফতার করেছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যার পেছনের পুরো ষড়যন্ত্র প্রকাশ পেয়েছে। এসএইচও পঙ্কজ মিশ্র জানিয়েছেন, “আমরা তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, প্রগতি তার প্রেমিকের সঙ্গে মিলে দিলীপকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। তারা একজন ভাড়াটে খুনিকে নিয়োগ করেছিল, যে দিলীপকে আক্রমণ করে এবং পরে তাকে মাঠে ফেলে রেখে চলে যায়।”
তদন্তে আরও জানা গেছে, দিলীপ পেশায় একজন হাইড্রা ড্রাইভার ছিলেন। তার স্ত্রী প্রগতি এবং প্রেমিক অনুরাগ দিলীপের সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই তাকে পছন্দ করত না। প্রগতি চেয়েছিল তার প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে এবং দিলীপকে পথ থেকে সরিয়ে দিতে। এই উদ্দেশ্যে তারা রামজি নাগরকে সুপারি দিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় টাকা লেনদেনের সময়ই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনা আওরাইয়া জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে এমন একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শিহরণ জাগিয়েছে। দিলীপের পরিবার এই ঘটনায় গভীর শোকে মুহ্যমান। তারা জানিয়েছে, দিলীপ একজন পরিশ্রমী ও সৎ ব্যক্তি ছিলেন, এবং তারা কখনোই ভাবতে পারেননি যে তার স্ত্রী এমন ষড়যন্ত্রে জড়িত হতে পারে। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা প্রগতিকে বাড়ির বউ হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু সে আমাদের ছেলেকে এভাবে শেষ করে দেবে, এটা কল্পনাও করিনি। আমরা এর কঠোর শাস্তি চাই।”
স্থানীয়রা এই ঘটনাকে একটি সতর্কতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অনেকে বলছেন, সম্পর্কের জটিলতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনা সমাজে নৈতিকতা ও সম্পর্কের প্রতি প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই মামলায় গভীরভাবে তদন্ত করছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। পঙ্কজ মিশ্র বলেন, “আমরা এই মামলায় সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই হত্যার পেছনে আরও কোনও সহযোগী জড়িত থাকতে পারে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর আওরাইয়া পুলিশ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও এই ধরনের অপরাধ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ড সমাজে বিশ্বাস ও সম্পর্কের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধনের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে এমন একটি ঘটনা সবাইকে হতবাক করেছে। স্থানীয় সমাজসেবী সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একজন সমাজকর্মী বলেন, “এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে। আমাদের শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে এই প্রবণতা রোধ করতে হবে।”
দিলীপের পরিবার এই ঘটনার পর ন্যায়বিচারের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। তারা চায়, এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
আওরাইয়ার এই হত্যাকাণ্ড একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যা সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশ্বাসঘাতকতার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। বিয়ের ১৫ দিনের মধ্যে স্ত্রী ও তার প্রেমিকের পরিকল্পনায় একজন নিরীহ যুবকের জীবন শেষ হয়ে যাওয়া সমাজের জন্য একটি বড় শিক্ষা। পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে এই ঘটনা আমাদের সামনে অনেক প্রশ্ন তুলে ধরেছে। সমাজ হিসেবে আমাদের এই ধরনের অপরাধ রোধে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন নৃশংসতার শিকার না হয়।