
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বৈজ্ঞানিক মহল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের Donald Trump প্রস্তাবিত নাসার বাজেটে ব্যাপক কাটছাঁটের পরিকল্পনা কংগ্রেস খারিজ করে দেওয়ায় বিজ্ঞান, গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারত।
ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নাসার বরাদ্দ প্রায় বর্তমান স্তরেই রাখা হবে। এর ফলে সংস্থার মূল বৈজ্ঞানিক প্রকল্পগুলি সুরক্ষিত থাকছে। গবেষকরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, বাজেট যদি হঠাৎ এতটা কমানো হয়, তাহলে তা মার্কিন মহাকাশ বিজ্ঞানের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে নাসার জন্য প্রায় ১৮.৮ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব করেছিল, সেখানে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরাদ্দ থাকছে তার থেকে অনেকটাই বেশি। এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে হোয়াইট হাউস নাসার বিজ্ঞান ও অনুসন্ধানমূলক ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা করেছিল, কংগ্রেস তা মানতে রাজি নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, নাসার সায়েন্স ডিরেক্টরেটের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ। কংগ্রেসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিভাগে প্রায় ৭.২৫ থেকে ৭.৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হবে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের চাওয়ার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং গত বছরের অনুমোদিত বাজেটের তুলনায় খুব সামান্যই কম। এর ফলে পৃথিবী বিজ্ঞান, গ্রহ বিজ্ঞান এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্রগুলি কার্যত রক্ষা পেল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক প্রস্তাবে নাসার বিজ্ঞান বাজেট ৪৭ শতাংশ থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর কথা বলা হয়েছিল। এই পরিকল্পনার আওতায় পৃথিবীর জলবায়ু গবেষণা, সৌরজগতের গ্রহ অনুসন্ধান এবং মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বন্ধ বা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, এই কাটছাঁট কার্যকর হলে ৫০টিরও বেশি চলমান ও পরিকল্পিত মিশন বাতিল বা স্থগিত হয়ে যেতে পারত। বিজ্ঞানীরা বারবার জানিয়েছেন, নাসার এই গবেষণাগুলি শুধু মহাকাশ অনুসন্ধানের জন্য নয়, বরং পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাজেট কমানো মানে শুধু একটি সংস্থার অর্থ সংকোচন নয়, বরং গোটা বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামোর উপর আঘাত।
কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই বিজ্ঞানের পক্ষে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন। এতে প্রমাণিত হল যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও, দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রশ্নে দ্বিদলীয় ঐক্য সম্ভব। নাসার গবেষণা ও অনুসন্ধানমূলক কাজ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি, নতুন আবিষ্কার এবং মহাকাশ সম্পর্কে মানবজাতির জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।










