বৃহন্মুম্বই পুরসভা (বিএমসি)-র নির্বাচনের পর শহরের প্রশাসনিক নেতৃত্বের দায়িত্বে আসা নতুন মেয়রের নাম চূড়ান্ত করার জন্য এক বিশেষ লটারি প্রক্রিয়া আয়োজন করা হয়েছিল। এই লটারি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং তা অনুযায়ী জানা গেছে, মেয়র পদে বসবেন একজন ‘জেনারেল’ মহিলা। এটি শহরের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।
মুম্বই, দেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সবসময়ই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বিগত কয়েকটি মেয়র নির্বাচনেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দলীয় কৌশল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হতো। তবে এবারের নির্বাচনে লটারি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিয়মিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে কিছুটা আলাদা। লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় কোন সংরক্ষিত ক্যাটাগরির ব্যক্তি মেয়র পদে আসীন হবেন। এই প্রক্রিয়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে ধরা হচ্ছে।
লটারি প্রক্রিয়ার পরে জানা যায়, এবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন একজন ‘জেনারেল’ ক্যাটাগরির মহিলা। এর মাধ্যমে শুধু নারী ক্ষমতায়নই নয়, বরং শহরের প্রশাসনে নতুন ধরণের নেতৃত্বের সূচনা হচ্ছে। মহিলা মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ মানে মুম্বইয়ের রাজনৈতিক মানচিত্রেও এক বিশেষ পরিবর্তনের প্রতিফলন। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি শুধু প্রতীকী নয়, বরং প্রশাসনিক নীতিমালা ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
২৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে মেয়র নির্বাচন প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মেয়রকে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর নতুন মেয়র শহরের নাগরিক পরিষেবা, শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবেন। বিশেষ করে মুম্বইয়ের নাগরিকদের জন্য সেবার মান উন্নয়নে নতুন মেয়রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মহিলা মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণকে শহরবাসীর অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এটি নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বিশেষ করে শহরের যুব সমাজ এবং নারী প্রজন্মের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণার উৎস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে পুরুষ নেতৃত্বে পরিচালিত মুম্বইয়ের প্রশাসনে নারীর আসন শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, সামাজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করবে।
