
দীর্ঘদিনের মুক্তবাণিজ্য নীতি থেকে সরে এসে এশিয়ার একাধিক দেশের আমদানিপণ্যে ব্যাপক শুল্ক বৃদ্ধি করল মেক্সিকো। যার ফলে বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়তে চলেছে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা। মেক্সিকোর সেনেট সম্প্রতি এমন এক নয়া শুল্ক কাঠামো অনুমোদন করেছে, যাতে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে ১,৪০০-রও বেশি পণ্যের ওপর—যেসব দেশের সঙ্গে মেক্সিকোর আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি নেই।
এই তালিকায় রয়েছে চিন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া—এশিয়ার পাঁচটি বড় রপ্তানিকারক দেশ।
৭৬–৫ ভোটে বিলটি পাশ হয়েছে সেনেটে, সংসদের নিম্নকক্ষ আগেই আইনটি অনুমোদন করেছিল। দেশীয় শিল্পমহলের আপত্তি এবং চিনের কড়া প্রতিবাদ সত্ত্বেও মেক্সিকো সরকার কঠোর শুল্কনীতির পথে হাঁটল।
নতুন শুল্ক কাঠামো: কোন কোন পণ্যে বাড়ছে ডিউটি
২০২৫ থেকে ২০২৬-এর মধ্যে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে এই শুল্ক বৃদ্ধি। যেসব পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক বসছে, তার মধ্যে রয়েছে—
গাড়ি ও অটো পার্টস
টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল
প্লাস্টিক
স্টিল ও অন্যান্য ধাতু
ফুডওয়্যারসহ একাধিক কনজিউমার গুডস
বেশিরভাগ পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক বসবে, আর কিছু নির্বাচিত পণ্যে এই হার উঠবে ৫০ শতাংশে।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ Mexico Tariff Hike India Exports
মেক্সিকো লাতিন আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং উত্তর আমেরিকার সরবরাহ-শৃঙ্খলে প্রবেশের মূল ‘গেটওয়ে’। ভারতীয় টেক্সটাইল, অটো কম্পোনেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং গুডসের জন্য মেক্সিকো এতদিন গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার ছিল।
নতুন শুল্কবৃদ্ধি—
ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা কমাবে
উৎপাদন ও পরিবহনের খরচ বাড়াবে
উত্তর আমেরিকায় প্রবেশের পথকে কঠিন করবে
মেক্সিকো হয়ে মার্কিন বাজারে ঢোকার কৌশলকে ব্যাহত করবে
মেক্সিকোর আমদানিনির্ভর শিল্প সংস্থাগুলিও সতর্ক করেছে যে এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হবে।
এ বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
আমেরিকার চাপ কি কাজ করছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেক্সিকোর এই হঠাৎ রূপান্তরের পিছনে প্রধান কারণ ওয়াশিংটনের চাপ। আগামী বছর USMCA বাণিজ্য চুক্তির পর্যালোচনার আগে মেক্সিকো মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিনের আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম দাবি করলেও যে এটি মার্কিন চাপের ফল নয়—নতুন শুল্ক কাঠামো ‘অদ্ভুতভাবে’ মার্কিন নীতির প্রতিফলন ঘটায়। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনেও সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।
মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, নতুন শুল্ক থেকে আগামী বছর ৫২ বিলিয়ন পেসো (প্রায় ₹১৯,০০০ কোটি) অতিরিক্ত রাজস্ব আসবে, যা বাজেট ঘাটতি কমাতে কাজে লাগানো হবে।
মেক্সিকোর ভিতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বিরোধী সিনেটর মারিও ভাসকেজ বলেছেন, কিছু সেক্টর চিনা পণ্যের চাপে স্বস্তি পেলেও এতে “ভোক্তাদের ওপর বাড়তি করের বোঝা পড়বে”।
শাসক দলের এমমানুয়েল রেয়েস বলেছেন, এই পদক্ষেপ “মেক্সিকোর শিল্পকে শক্তিশালী করবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করবে।”
স্থানীয় অটো শিল্প এই শুল্ক বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছে। বর্তমানে চিন মেক্সিকোর অটো মার্কেটে ২০% শেয়ার দখল করেছে—ছয় বছর আগেও যার অস্তিত্ব প্রায় ছিল না। এবার চিনা গাড়ির ওপর ৫০% শুল্ক বসবে।
ভারতীয় রফতানিকারকদের সামনে কী আশঙ্কা
নতুন আইন মেক্সিকোর অর্থ মন্ত্রককে শুল্কহার দ্রুত পরিবর্তনের ক্ষমতা দিয়েছে। ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য—
শুল্কহারের অনিশ্চয়তা
সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন ঝুঁকি
মার্কিন-বাজারমুখী কৌশলে পরিবর্তনের প্রয়োজন
বাণিজ্যিক আলোচনায় অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ










