মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী সাংমার নিরাপত্তায় গুলি চালাতে তৈরি রক্ষীরা, জনতা ধরাল আগুন

রক্তাক্ত মণিপুরের পর এবার জ্বলন্ত মেঘালয়। মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে রেখে জনতার ক্ষোভের আগুন। তুরা শহর অগ্নিগর্ভ। মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক রক্ষী জখম। বিজেপি এ রাজ্যেও সরকারের শরিক।

সরকারি বৈঠকে গিয়ে মেঘালয়ের (Meghalaya) মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা (Conrad Sangma) জনতার ক্ষোভের মুখে পড়ে অসহায়। তাঁকে ঘিরে রাখা রক্ষীরা যে কোনওরকম হামলার জবাব দিতে তৈরি। প্রয়োজনে তারা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে প্রস্তুত। আর মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে হাজার খানেক জনতার ঘেরাও চলেছে। তাদের অনেকেই ক্রমাগত পাথর ছুঁড়ে চলেছেন। জ্বলছে মেঘালয়ের তুরা শহর। মুখ্যমন্ত্রী জনতার ঘেরাটোপে বন্দি। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা মেঘালয়ের শীতকালীন রাজধানী হিসাবে তুরাকে মনোনীত করা এবং ৫১ বছর বয়সী চাকরি সংরক্ষণ নীতির যথাযথ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশদ আলোচনার জন্য আমন্ত্রিত কিছু স্থানীয় সংস্থার নেতাদের সাথে বৈঠক করছিলেন। সেই বৈঠক চলাকালীন শত শত জনতা সিএমওর বাইরে জড়ো হয়ে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।

   

ঘেরাওকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। তবে তিনি একপ্রকার বন্দি। 

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী সাংমার নিরাপত্তায় গুলি চালাতে তৈরি রক্ষীরা, জনতা ধরাল আগুন

নিরাপত্তা রক্ষীরা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে শূন্যে গুলি চালিয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়েছে। অন্যদিকে ঘেরাওকারীরা অনড়। বারবার সন্ত্রাসবাদে রক্তাক্ত হলেও এমন পরিস্থিতি মেঘালয়ে আগে হয়নি। কনরাড সাংমাকে একপ্রকার ঘেরাও-বন্দি করে রাখা হয়েছে তুরা শহরের মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ে। তাঁর নিরাপত্তায় থাকা পাঁচ রক্ষী জখম। উত্তরপূর্বাঞ্চলের রক্তাক্ত জাতিগত সংঘর্ষে মণিপুর যখম বিতর্কের কেন্দ্র তখন মেঘালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি গরম।

জনতার হামলায় ভবনের কিছু জানালার কাঁচ ভেঙে গেলে পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছেন বলে জানানো হয়েছে। সাংমা বলেছেন ‘আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। যা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। যারা প্ররোচিত করেছে তাদের সম্পূর্ণ ভিডিও রেকর্ডিং আছে।

আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতা লাবেন চ বলেছেন সিএমওর বাইরে জড়ো হওয়া আগ্রাসী জনতা তাদের আন্দোলনের অংশ নয়। গত কয়েকদিন ধরে আমরা শান্তিপূর্ণ অনশনের আয়োজন করে আসছি। স্লোগান দেওয়া এবং পাথর ছোড়া শুরু যারা করেছে তাদের আগে কখনও দেখিনি।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন