বাংলাদেশ হিন্দু খুনে বিস্ফোরক জমিয়ত প্রধান

mahmood-madani-condemns-bangladesh-mob-lynching

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে দিপু চন্দ্র দাসের মব লিঞ্চিংয়ের ঘটনায় (Maulana Mahmood Madani)তীব্র নিন্দা ও গভীর লজ্জার কথা জানালেন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু মানবতা নয়, ইসলাম ধর্মের মৌলিক আদর্শেরও পরিপন্থী এ কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে তিনি বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে মুসলমান হিসেবে “আমাদের মাথা লজ্জায় নত হয়ে আসে।”

একটি প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা মাদানি বলেন, সভ্য সমাজে কোনও মানুষের আরেকজন মানুষকে হত্যা করার অধিকার নেই। কারও আচরণ বা কাজ যতই ভুল হোক না কেন, তার শাস্তির একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই পথেই বিচার হওয়া উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর কথায়, “কোনও সভ্য সমাজেই এ ধরনের বর্বরতার কোনও জায়গা নেই।”

   

‘ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে’, বাংলাদেশি গণমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

তিনি আরও বলেন, যদি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীরা মুসলমান হন এবং নিহত ব্যক্তি অমুসলিম হন, তাহলে এই অপরাধ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কারণ এতে শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না, বরং ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ও ঘৃণার বিস্তার ঘটে। এই ঘটনাকে তিনি “অত্যন্ত নিন্দনীয়” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “এর যত নিন্দাই করা হোক, তা কম পড়ে।”

মাওলানা মাদানি স্পষ্ট করে জানান, ইসলাম কখনও কাউকে হত্যা করার অনুমতি দেয় না। শুধু হত্যা নয়, কাউকে অপমান করা, নিগৃহীত করা বা তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করাও ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। “ইসলাম কোনও পরিস্থিতিতেই এ ধরনের আচরণকে অনুমোদন করে না,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, যারা ধর্মের নাম করে হিংসা ছড়ায়, তারা আসলে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা ও মূল্যবোধকেই বিকৃত করছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেও কথা বলেন জমিয়ত প্রধান। তিনি স্বীকার করেন, গোটা উপমহাদেশ জুড়েই চরমপন্থা ও উগ্রতার প্রবণতা বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই এই ধরনের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। তাঁর মতে, এই উগ্রবাদকে অবিলম্বে রুখতে না পারলে সমাজের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়বে।

মাওলানা মাদানি বলেন, চরমপন্থা কোনও ধর্মের একচেটিয়া সমস্যা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। তাই এর মোকাবিলাও হতে হবে সম্মিলিতভাবে আইন, শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের মাধ্যমে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় এই সময়ে, যাতে ধর্মের নামে হিংসা বা ঘৃণা ছড়াতে না পারে কেউ।

এই বক্তব্যের পর মানবাধিকার সংগঠন এবং সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের একাংশ মাওলানা মাদানির অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন নিন্দা সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় হিংসা কোনওভাবেই ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।

দিপু চন্দ্র দাসের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তার মধ্যেই মাওলানা মাদানির বক্তব্য কিছু shown আশ্বাস জুগিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে একই সঙ্গে প্রশ্নও উঠছে—শুধু নিন্দা নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী ধরনের বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

সব মিলিয়ে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ সভাপতির বক্তব্য মানবতা, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং আইনের শাসনের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। হিংসার বিরুদ্ধে এই কণ্ঠস্বর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে, কিন্তু এই বার্তা নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক অবস্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন