
লখনউ (Lucknow Police) রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক শনাক্তকরণে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে লখনউ পুলিশ, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এবং গভার্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (GRP)। এই বিশেষ অভিযানকে কেন্দ্র করে ভারত টুডের সংবাদদাতা সামর্থ শ্রীবাস্তব একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রেলস্টেশন সংলগ্ন ঝুপড়ি-বস্তি ও অস্থায়ী বাসস্থানগুলিতে বসবাসরত ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা।
যৌথ টিমের পক্ষ থেকে এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের আধার কার্ড, ভোটার আইডি এবং অন্যান্য প্রমাণপত্র যাচাই করা হচ্ছে। অভিযানটি মূলত তল্লাশি এবং তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রত্যেক বাসিন্দাকে ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে কেউ কাগজপত্রের মাধ্যমে নিজের আসল পরিচয় গোপন করতে না পারে। অভিযানের সময় দেখা গেছে, অনেকেই তাদের জন্মস্থান হিসেবে আমেঠি, রায়বেরলি বা অন্যান্য উত্তর প্রদেশের জেলা উল্লেখ করেছেন।
এই অভিযানটি কার্যকর করার পেছনে প্রেক্ষাপট হিসেবে রয়েছে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশ। তিনি বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন, অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত করা হোক এবং তাদের যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে লখনউ পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। অভিযানটি জনমনে সচেতনতা বাড়াতে এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে, এই বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো অবৈধ বাসিন্দা পাওয়া যায়নি। এই ফলাফলের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে, অভিযানের ধারা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আইন অনুযায়ী পরিচয় প্রদর্শন করছেন। যদিও এলাকার কিছু বাসিন্দা তাদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন, পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করেছেন যে, সকল তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং কোনোরকম প্রক্রিয়াগত ত্রুটি হবে না।
যৌথ অভিযানের সময়, উপস্থিত সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান সন্দীপ দুবে এই ঘটনাটি ধারণ করেছেন। সাংবাদিক সামর্থ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, অভিযানের মাধ্যমে শুধু অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করাই নয়, বরং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অন্যতম লক্ষ্য। এলাকার বাসিন্দারা স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে আইনগত নিয়মনীতি মেনে চলার প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।
অভিযানের পরামর্শদাতা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে চালানো হবে। বিশেষ করে রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা যেখানে অনিয়ম ও অগণিত ঝুপড়িবাসী রয়েছে, সেখানে পরিচয় যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, আধার ও অন্যান্য সরকারি পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে কোনো ভুয়া পরিচয় বা অবৈধ বসবাস ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়, এই অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া মানার মানসিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও কোনও অবৈধ বাসিন্দা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তবে অভিযান চলমান এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব সামগ্রিকভাবে এলাকায় নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।





