সংসদে ই-সিগারেট টানলেন তৃণমূল সাংসদ? অনুরাগের অভিযোগে সরগরম লোকসভা

Lok Sabha E-cigarette Vote Chori

শীতকালীন অধিবেশনের মাঝেই লোকসভায় ফের তীব্র উত্তেজনা। অধিবেশনের শুরু থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক যে দানা বেঁধেছিল, বৃহস্পতিবার তা এক নতুন মোড় নিল। বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর নাম না করে অভিযোগ করেন, এক তৃণমূল সাংসদ নাকি নিয়ম ভেঙে লোকসভা ভবনের ভেতরেই ই-সিগারেট টানছেন। সাংসদের নাম না করে তিনি সরাসরি স্পিকার ওম বিরলাকে বিষয়টি “গুরুত্বসহকারে বিবেচনার” আবেদন জানান।

ঠাকুর জানান, “দেশে ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাহলে লোকসভায় এটির ব্যবহার কী করে সম্ভব? স্পিকার মহাশয় কি এর জন্য কোনও অনুমতি দিয়েছেন?” তাঁর অভিযোগে অধিবেশন মুহূর্তে সরগরম হয়ে ওঠে।

   

সংসদ ভবনে ধূমপানের অনুমতি নেই

খুবই কড়া সুরে জবাব দেন স্পিকার ওম বিরলা। তিনি বলেন, “সংসদ ভবনে কোনও ভাবেই ধূমপানের অনুমতি নেই। কেউ নিয়ম ভেঙে থাকলে প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিন—উপযুক্ত ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে।” তাঁর কঠোর বার্তায় বিরোধী বেঞ্চে মুহূর্তের জন্য নীরবতা ফেরে।

ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল আবারও স্মরণ করল ২০১৯ সালের Electronic Cigarettes (Prohibition) Act-কে, যার জেরে দেশে ই-সিগারেটের উৎপাদন, বিক্রি, আমদানি, রফতানি থেকে বিজ্ঞাপন—সবই অপরাধ বলে গণ্য হয়। লঙ্ঘন করলে রয়েছে জেল ও অর্থদণ্ডের বিধান।

অমিত শাহ-রাহুল গান্ধী তরজা

এর মধ্যেই আগের দিনের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বুধবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিরোধী নেতা রাহুল গাঁধীর মধ্যে ‘ভোট চুরি’ ইস্যু নিয়ে তুমুল বাকযুদ্ধ হয়। বিশেষ ভোটার তালিকা পর্যালোচনা (SIR) নিয়ে রাহুল অভিযোগ করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রচেষ্টায় ভোটার তালিকা “হস্তক্ষেপের শিকার”।

কঠোর ভাষায় পাল্টা দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “কংগ্রেস আর দুর্নীতির রাজনীতিতে ভর করে ভোট জিততে পারছে না বলেই এই নতুন বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। মামলা হেরে গেলে বিচারককে দোষ, প্রশ্ন তুললে সাংবাদিককে দোষী করা হয়, ভোটে হারলে ইভিএমকে। এখন ইভিএমের অভিযোগ ধোপে টিকছে না বলে এল ‘ভোট চুরি’। বিহারেও হারলেন—এবার স্বীকার করা উচিত, সমস্যা ইভিএমে নয়, কংগ্রেসের নেতৃত্বে।”

রাহুলের চ্যালেঞ্জ

শাহের বক্তব্যে বাধা দিয়ে রাহুল গান্ধী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “অমিত শাহজি, আমার তিনটি সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্য নিয়ে সরাসরি বিতর্কে আসুন। সংসদের মঞ্চেই আসুন—বিতর্ক করুন।”

তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে শুরু করে ‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিজেপি–কংগ্রেসের মুখোমুখি অবস্থান—সব মিলিয়ে শীতকালীন অধিবেশনের রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়ল, তা স্পষ্ট। সংসদীয় মহলের মতে, অধিবেশনের বাকি দিনগুলিও যে একইভাবে বিতর্কে ঠাসা থাকবে, তারই ইঙ্গিত মিলল এ দিনের ঘটনাপ্রবাহে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন