বাংলাদেশকে হাতিয়ার করে প্রকশ্যে মোদী হত্যার ছক লস্করের

lashkar-chief-saifullah-open-threat-india

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মঞ্চে ফের চরম উদ্বেগজনক ছবি সামনে এল (Lashkar chief)। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুরে লস্কর-ই-তৈয়বার এক প্রকাশ্য সমাবেশে সংগঠনের শীর্ষ নেতা সইফুল্লাহ এমন ভাষায় ভারতকে হুমকি দিলেন, যা কূটনৈতিক ও মানবিক দু’টি সীমারেখাই লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি ভারত, ভারতের নেতৃত্ব এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ভাষায় আক্রমণ শানান এবং মোদীকে হত্যার হুমকি দেন।

ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বাহাওয়ালপুরে আয়োজিত ওই সমাবেশে সইফুল্লাহ দাবি করেন, ভারত-বিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশও নাকি একই অবস্থানে রয়েছে। এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ কোনও রাষ্ট্রের নাম জুড়ে এ ধরনের সন্ত্রাসবাদী আহ্বান আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

   

অভিষেকের সভামুখী যাত্রায় ধাক্কা, ‘পরিকল্পিত বাধা’! হেলিকপ্টার বিতর্কে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল তৃণমূল

সমাবেশে উপস্থিত শতাধিক লস্কর সমর্থকের সামনে সইফুল্লাহ উসকানিমূলক বক্তব্য রেখে ভারতের বিরুদ্ধে সহিংস হামলার জন্য যুবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি ‘গজওয়া-ই-হিন্দ’-এর মতো চরমপন্থী মতাদর্শের উল্লেখ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নামও টেনে আনেন, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি জঙ্গি বক্তব্য নয়, বরং রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের ইঙ্গিত বহন করে।

এই ঘটনার পর ভারতীয় নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক সতর্কতা জারি হয়েছে। সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির আশঙ্কা, এই ধরনের প্রকাশ্য হুমকি আসলে নতুন করে অনুপ্রবেশ, র‍্যাডিকালাইজেশন এবং ‘লোন উলফ’ হামলার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

কূটনৈতিক মহলেও এই মন্তব্যের প্রভাব পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের মাটিতে বসে একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নেতা যদি প্রকাশ্যে এভাবে হুমকি দিতে পারেন, তা সে দেশের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। ভারত আগেও একাধিকবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। এই নতুন ঘটনার পর সেই দাবি আরও জোরালো হতে পারে বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।

বাংলাদেশকে নিয়ে করা মন্তব্য প্রসঙ্গে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা। দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতেই এই ধরনের দাবি তোলা হচ্ছে বলে মত তাঁদের। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে জঙ্গি সংগঠনগুলি এখন আর গোপনে নয়, বরং প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়েই উসকানি দিতে সাহস পাচ্ছে। এর মোকাবিলায় শুধু সামরিক বা গোয়েন্দা পদক্ষেপ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বিত কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন দু’টি ক্ষেত্রেই চরমপন্থী প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন