প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শ্রীঘর যাত্রা নিশ্চিত করল হাইকোর্ট

lalu-prasad-yadav-land-for-jobs-case-delhi-court

নয়াদিল্লি: দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব (Lalu Prasad)ও তাঁর পরিবারের জন্য একটি বড় আইনি পর্যবেক্ষণ নিয়ে এসেছে। বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে ‘ল্যান্ড-ফর-জবস’ কেলেঙ্কারিতে দুর্নীতি, প্রতারণা ও অপরাধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, লালু যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালীন (২০০৪-২০০৯) রেলমন্ত্রককে “ব্যক্তিগত জমিদারি” হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং পরিবারের সদস্যরা একটি “ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ” (অপরাধী উদ্যোগ) চালিয়েছেন।

   

‘গুপ্ত কাগজ বেরোলে কি অভিষেক ফেঁসে যেতেন?’ মমতাকে তুলোধোনা গিরিরাজের

আদালত আরও বলেছে রেলের গ্রুপ-ডি চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের নামে জমি সস্তায় হস্তান্তর করা হয়েছে।সিবিআই-এর অভিযোগপত্র অনুসারে, লালু যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালীন গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে জমি নেওয়া হয়েছে।

এই জমিগুলো তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী, ছেলে তেজস্বী যাদব, তেজ প্রতাপ যাদব, মেয়ে মিসা ভারতী, হেমা যাদবসহ পরিবারের সদস্যদের নামে বা ঘনিষ্ঠদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই মন্তব্যে দিল্লির শীর্ষ আদালত কার্যত লালু প্রসাদের জেল যাত্রা নিশ্চিত করে দিয়েছে।

আদালত বলেছে, “পাবলিক এমপ্লয়মেন্টকে বার্গেনিং চিপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে” এবং এতে “একটি ব্যাপক অপরাধী ষড়যন্ত্র” (overarching criminal conspiracy) ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন লালু যাদব।আদালত ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্যে লালু, রাবড়ি, তেজস্বী, তেজ প্রতাপ, মিসা ভারতীসহ পরিবারের সদস্যরা এবং কিছু রেল আধিকারিক ও সহযোগী রয়েছেন।

অন্যদিকে ৫২ জনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু রেল আধিকারিক ও প্রার্থী রয়েছেন, কারণ তাঁদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৩ জানুয়ারি।এই রায়কে বিজেপি-জেডিইউ জোট “বড় সাফল্য” বলে অভিহিত করেছে। জেডিইউ নেতারা বলেছেন, লালু যাদবের এমন অভিযোগের পর আরজেডি প্রধান পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।

তাঁরা দাবি করেছেন,বাজেয়াপ্ত করা জমিগুলোতে স্কুল, বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলা উচিত। অন্যদিকে আরজেডি এই মামলাকে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের তরফে বলা হয়েছে, এটি লালু যাদবের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্ত, কিন্তু তিনি ভয় পাবেন না।লালু যাদবের জন্য এটি একের পর এক আইনি ধাক্কার সিরিজের অংশ। ইতিমধ্যে চারাগুলি কেলেঙ্কারিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং জেল খেটেছেন।

এই নতুন মামলায় আদালতের বিশেষ পর্যবেক্ষণে লালুর জেল যাত্রা কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে বিহারের রাজনীতিতে, যেখানে তেজস্বী যাদব এখন আরজেডির মুখ, এই রায়ের প্রভাব পড়বে।আদালতের এই পর্যবেক্ষণ শুধু একটি মামলার নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা। আগামী দিনে বিচারপ্রক্রিয়া কোন দিকে যায়, তা দেখার। কিন্তু এই মুহূর্তে দিল্লি আদালতের রায় লালু যাদব ও তাঁর পরিবারের জন্য এক বড় আঘাত, যা বিহারের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন