মুসলিমদের প্রার্থনায় সমস্যা নয়! কেন মন্তব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর?

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)সম্প্রতি একটি মন্তব্য করে সবার নজর কেড়েছেন। তিনি বলেছেন, যতজন হজ যাত্রী মুসলিমের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে,…

kiren-rijiju-muslim-prayers-haj-pilgrims

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)সম্প্রতি একটি মন্তব্য করে সবার নজর কেড়েছেন। তিনি বলেছেন, যতজন হজ যাত্রী মুসলিমের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে, প্রত্যেকেই তাকে আশীর্বাদ করেছেন এবং তার সুস্থতা ও মঙ্গলের জন্য দোয়া করেছেন। এই কথা বলার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রার্থনা বা দোয়ায় কোনো সমস্যা নেই বরং তা তার কাছে একটা বড় আশীর্বাদ।

Advertisements

এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সরকারের সংখ্যালঘু কল্যাণ নীতির একটা ইতিবাচক দিক ফুটে উঠেছে।রিজিজু আরও স্মরণ করেছেন তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। তিনি নিজে সৌদি আরবে গিয়ে দেখেছেন হজ যাত্রীদের অবস্থা। বিশেষ করে দরিদ্র যাত্রীদের যাতে কোনো কষ্ট না হয়, সেজন্য তিনি সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

   

বিধানসভা ২০২৬: জোট ভুলে একলা লড়বে কংগ্রেস!

সৌদি আরব সফরের সময় তিনি হজ্জ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি জেদ্দায় গিয়ে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী তাওফিক বিন ফাওজান আল-রাবিয়াহের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ২০২৬ সালের হজের জন্য ভারতের কোটা নির্ধারণ করা হয় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ২৫ জন।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভারতীয় যাত্রীদের জন্য আরও সুবিধাজনক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে যেমন ভালো থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা।রিজিজু বলেছেন, সৌদি আরব হজ যাত্রীদের সুবিধার জন্য অনেক উন্নতি করেছে। প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যবস্থাপনা আরও স্মার্ট হয়েছে, কিন্তু কিছু নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে মানতে হয়।

দরিদ্র যাত্রীদের জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে সৌদি আরবে গিয়ে সবকিছু পরিদর্শন করেছেন, যাতে ভারতীয় যাত্রীরা কোনো অসুবিধায় না পড়েন। এই সফরে তিনি তাইফে ওমরাহ সুবিধাগুলোও দেখেছেন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার কথায়, “দরিদ্র যাত্রীদের কোনো কষ্ট যেন না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সৌদি আরবে গিয়েছিলাম।”

এই মন্তব্যের পিছনে একটা বড় বার্তা আছে। রিজিজু বলেছেন, হজ যাত্রীদের সঙ্গে তার যে সম্পর্ক, তা খুব উষ্ণ। তারা তাকে দেখলে দোয়া করেন, তার মঙ্গল কামনা করেন। এটা দেখিয়ে দেয় যে, সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয় যেমন সস্তা বিমান ভাড়া, বয়স্কদের জন্য সঙ্গী নীতি, সৌদি আরবে মেডিক্যাল সুবিধা বাড়ানো তা মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছেছে।

ফলে তাদের মনে সরকারের প্রতি একটা কৃতজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। রিজিজু আরও বলেছেন, বিজেপি সরকার সংখ্যালঘুদের কল্যাণে অনেক কাজ করছে, হজ ব্যবস্থাপনা তার একটা উদাহরণ।সম্প্রতি হজ্জ ২০২৬-এর প্রস্তুতি নিয়ে তিনি যাত্রীদের সতর্ক করেছেন শুধুমাত্র অনুমোদিত হজ্জ গ্রুপ অর্গানাইজার বা প্রাইভেট ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে বুকিং করতে। জানুয়ারি ১৫, ২০২৬-এর মধ্যে বুকিং করলে শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়ানো যাবে। এই পরামর্শও যাত্রীদের সুবিধার জন্য।

Advertisements