সোনা চুরি মামলায় কংগ্রেস নেতৃত্বকে কাঠগড়ায়, সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ মুখ‌্যমন্ত্রীর

কেরালার (Kerala) রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোড়ন তুলেছে সবরীমালা মন্দিরে সোনা চুরি কাণ্ড। একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ঘিরে ওঠা এই দুর্নীতির অভিযোগ এখন রীতিমতো রাজনৈতিক লড়াইয়ের…

Kerala Politics Erupt as Vijayan Alleges Sonia Gandhi Link in Sabarimala Gold Case

কেরালার (Kerala) রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোড়ন তুলেছে সবরীমালা মন্দিরে সোনা চুরি কাণ্ড। একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ঘিরে ওঠা এই দুর্নীতির অভিযোগ এখন রীতিমতো রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সরাসরি কংগ্রেস সাংসদ সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বিতর্ক আরও ঘনীভূত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর যোগসূত্রের প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবি সামনে এসেছে, যা এই মামলাকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা দিয়েছে।

Advertisements

এই মামলার তদন্তে গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) ইতিমধ্যেই কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে। তদন্তকারীদের মতে, ‘স্মার্ট ক্রিয়েশনস’-এর সঙ্গে যুক্ত পঙ্কজ ভাণ্ডারি এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোবর্ধন রোদ্দাম এই সোনা চুরি ষড়যন্ত্রের মূল কাণ্ডারি। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবরিমালা মন্দিরের পবিত্র অলঙ্কার ও মূল্যবান ধাতু বেআইনিভাবে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় তাঁরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

   

এই ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ত্রাবাঙ্কোর দেবস্বম বোর্ডের দুই প্রাক্তন সভাপতিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেবস্বম বোর্ড রাজ্যের বহু মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকে, ফলে এই গ্রেপ্তার কেবল আইনি নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিরোধীদের দাবি, এই গ্রেপ্তার প্রমাণ করে যে সোনা চুরি কাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত বৃহত্তর চক্রান্ত।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপি তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)-র হাতে দেওয়ার জোরালো দাবি তুলেছে। বিজেপির অভিযোগ, এই কেলেঙ্কারিতে কেবল শাসক বামফ্রন্ট (LDF) নয়, বিরোধী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UDF-ও জড়িত থাকতে পারে। তাদের মতে, রাজ্য পুলিশের অধীনে থাকা SIT নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারবে না, কারণ রাজনৈতিক প্রভাবের সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাই সিবিআই তদন্তই একমাত্র উপায়, যার মাধ্যমে পুরো সত্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত এখনও চলছে এবং আগাম কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে কিছু মহল রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে আসন্ন উৎসবের মরসুমে অযথা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

 

 

Advertisements