
উজ্জয়িনে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) আনন্দ মালভিয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে, যখন তিনি ইন্দোরে দূষিত জলের কারণে মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য নগর উন্নয়ন ও আবাসন মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের (Kailash Vijayvargiya) বিতর্কিত ‘ঘন্টা’ মন্তব্যকে “অত্যাচারী আচরণের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করে একটি সরকারি আদেশ জারি করেছিলেন। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় (Kailash Vijayvargiya) সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন ইন্দোরে দূষিত পানীয় জল গ্রহণের ফলে মানুষের মৃত্যুর পর কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিক্ষোভের আশঙ্কায় আনন্দ মালভিয়ার দপ্তর আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করে। আদেশে পুলিশ মোতায়েন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক দিকনির্দেশনার পাশাপাশি কিছু অস্বাভাবিক এবং বিতর্কিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নথিতে দাবি করা হয়েছিল, ইন্দোরে “বিজেপি-শাসিত পৌর কর্পোরেশন দ্বারা সরবরাহিত দূষিত জলের কারণে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২,৮০০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।” এছাড়াও, কৈলাস বিজয়বর্গীয়র মন্তব্যকে “মানবতাবিরোধী ও অত্যাচারী আচরণের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং নথিতে বলা হয়, “এই সংবেদনশীল বিষয়ে ‘ঘন্টা’ শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত আপত্তিজনক।” নথিতে আরও বলা হয়, “এই সংবেদনশীল ইস্যুতে রাজ্য সরকারের এক মন্ত্রীর দ্বারা করা আপত্তিকর মন্তব্য, ‘ঘন্টা’ শব্দের ব্যবহার মানবতাবিরোধী ও অত্যাচারী আচরণের প্রতীক।
এই নির্দেশিকার ভাইরাল হওয়ার পর রাজ্য প্রশাসন তৎপরতা দেখায়। উজ্জয়িনী বিভাগের ডিভিশনাল কমিশনার আশিস সিংয়ের তত্ত্বাবধানে আদেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের ফলাফলে জানা যায় যে, ৩ জানুয়ারি প্রস্তাবিত বিক্ষোভ সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়েছিল, কিন্তু যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হয়নি। নথিতে রাজনৈতিক বিষয় এবং কংগ্রেসের অভিযোগ প্রায় হুবহু তুলে ধরা হয়েছিল, যা শীর্ষ প্রশাসনের দৃষ্টিতে “গুরুতর অবহেলা এবং নিয়মবিরুদ্ধ” বলে বিবেচিত হয়।
ফলে, আনন্দ মালভিয়াকে “সংবেদনশীল ইস্যুতে দায়িত্ব পালনে গুরুতর অবহেলা ও অনিয়ম”ের কারণে স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে তার সহকারীও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বরখাস্তের পর নতুন এসডিএম হিসেবে দায়িত্ব নেন অভিষেক শর্মা। তিনি দপ্তরের সকল কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন এবং স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যে, ভবিষ্যতে সমস্ত সরকারি আদেশ অবশ্যই প্রশাসনিক শালীনতা এবং পেশাদার ভাষা বজায় রেখে জারি করতে হবে। রাজনৈতিক মন্তব্য, পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য বা অযাচিত অভিযোগ কোনও অবস্থাতেই সরকারি নথিতে স্থান পাবে না।





