বৃহস্পতিবার ভোরে ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা অরণ্যে মাওবাদীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়।যার জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। কোলহান ডিভিশনের ডিআইজি অনুরঞ্জন কিসকোট্টা মাওবাদীদের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, গোটা এলাকায় এখন চিরুনি তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে কিরিবুরু থানা এলাকার কুম্বাডিহি গ্রামে মাওবাদীদের উপস্থিতির খবর পায় নিরাপত্তা বাহিনী। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে যৌথ বাহিনীর একটি দল অভিযান শুরু করে। পুলিশের দল জঙ্গলে ঢুকতেই আচমকা মাওবাদীরা গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। এর পরেই দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক গুলির লড়াই।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের আইজি (অপারেশন) এস মাইকেল রাজ জানিয়েছেন, এখনও পুরোপুরি অভিযান শেষ হয়নি এবং কিছু এলাকায় গুলির লড়াই চলছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “অপারেশন অত্যন্ত সংবেদনশীল। নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে।”ডিআইজি অনুরঞ্জন কিসকোট্টা জানান, সংঘর্ষস্থল থেকে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অস্ত্র বা সামগ্রীর সঠিক সংখ্যা জানানো সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, “সারান্ডা অরণ্য দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই অভিযানের মাধ্যমে মাওবাদী সংগঠনের উপর বড়সড় চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের জেরে কুম্বাডিহি ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ গ্রামগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষকে আপাতত ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও যাতায়াতের ওপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, নিহত মাওবাদীদের মধ্যে কয়েকজন শীর্ষস্তরের নেতা থাকতে পারে। তবে অভিযানের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে চাইছেন না আধিকারিকরা। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
