
জাতীয় সঙ্গীত ও দেশপ্রেম এই দুইয়ের সংযোগ (Jammu Kashmir)ঘিরে ফের বিতর্কে উত্তাল জম্মু-কাশ্মীর। রাজ্যের অন্যতম শীর্ষ মুসলিম সংগঠন মুত্তাহিদা মজলিস-উল-উলামা (MMU) অভিযোগ করেছে, স্কুল অনুষ্ঠান ও অনলাইন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়াকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন কাশ্মীরের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের শিক্ষাঙ্গনগুলিতে রাষ্ট্রগানের বয়কটের ডাক এসেছে। তবে রাষ্ট্রগীতি নিয়ে উত্তাল জম্মু-কাশ্মীরের বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে ইন্ডি জোট এবং রাহুল গান্ধী।
MMU-এর বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম’-এ মাতৃভূমিকে দেবীর রূপে কল্পনা করা হয়েছে, যা ইসলামের একেশ্বরবাদী দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংগঠনের মতে, ইসলামে আল্লাহর একত্বই সর্বোচ্চ, সেখানে ভূমি বা অন্য কোনও কিছুকে দেবত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণেই ‘ভান্দে মাতরম’ পাঠ বা গানের অনুষ্ঠান মুসলিম সমাজের একটি বড় অংশের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে বলে দাবি তাদের।
সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক স্কুলে জাতীয় স্তরের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ‘বন্দে মাতরম ’ গাওয়া এবং অনলাইনে গান গাওয়ার প্রতিযোগিতার আয়োজন ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। MMU অভিযোগ করেছে, এই উদ্যোগগুলো স্বেচ্ছাসেবার নামে কার্যত বাধ্যতামূলক করে তোলা হচ্ছে, যা তারা ‘ফোর্সড হিন্দুত্ব’ বলে বর্ণনা করেছে।
মিরওয়াইজ উমর ফারুকের নেতৃত্বাধীন সংগঠন সরাসরি জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা এবং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর কাছে আবেদন জানিয়েছে, এই ধরনের কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য। তাদের বক্তব্য, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা উপেক্ষা করে এমন কর্মসূচি সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে। MMU-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইসলাম নিজের মাতৃভূমিকে ভালোবাসতে শেখায়, কিন্তু তা কর্মের মাধ্যমে সততা, দায়িত্ববোধ এবং সমাজসেবার মধ্য দিয়ে। কোনও ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত স্লোগান বা আচার চাপিয়ে দিয়ে দেশপ্রেম প্রমাণ করতে হয় না।”
শুধু প্রশাসনই নয়, সংবাদমাধ্যমের একাংশকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে সংগঠনটি। অভিযোগ, কিছু সংবাদপত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ভান্দে মাতরম’ ঘিরে প্রচারমূলক কনটেন্ট প্রকাশ করে মুসলিম সমাজের অনুভূতিকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছে। MMU-এর মতে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল মিডিয়ার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জম্মু-কাশ্মীরের মতো মুসলিম প্রধান ও সংবেদনশীল অঞ্চলে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এক পক্ষ যেখানে একে জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ সেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাতের প্রশ্ন তুলছে। এই দ্বন্দ্বই বর্তমানে কাশ্মীরের সামাজিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা আরও বলেছেন রাহুল গান্ধী বা ইন্ডি জোট এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে মুসলিমদের খুশি করার চেষ্টা করছেন।
সরকারি মহলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিতর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সমস্ত সম্প্রদায়ের অনুভূতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।










