
শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদ দমনে এক বিরাট অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী (Jaish overground workers arrested)। গত শনিবার রাতে শ্রীনগরে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ১৫০-এর বেশি সন্দেহভাজন ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার (ওজিডব্লিউ)কে আটক করেছে। এই ওজিডব্লিউরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযানের উদ্দেশ্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের সাপোর্ট সিস্টেমকে ধ্বংস করা, যাতে হামলার আগেই তাদের কার্যকলাপ বন্ধ করা যায়।অভিযানটি শুরু হয়েছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে। শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয় এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এই অভিযান জৈশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি নেটওয়ার্ককে ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে চালানো হচ্ছে।
মেসি কাণ্ডে দিদির গ্রেফতারি চেয়ে বেলাগাম মামা
উপত্যকার বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চলছে এবং আরও আটক হতে পারে।” আটককৃতরা বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে জঙ্গিদের লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট, আশ্রয় প্রদান এবং অন্যান্য সহায়তার তথ্য বের করে আনার চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের খবর নেই, কিন্তু তদন্তের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।ওজিডব্লিউরা জঙ্গিদের সরাসরি অংশ না হলেও তারা গোপনে সাহায্য করে।
যেমন আর্থিক সহায়তা, আশ্রয়, তথ্য প্রদান বা অস্ত্র সরবরাহ। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের প্রতিরোধমূলক অভিযান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। “হামলা ঘটার আগেই নেটওয়ার্ক কেটে দেওয়া এটাই প্রকৃত প্রতিরোধের উদাহরণ,” বলছেন এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী ঘটনা কমলেও জৈশ-ই-মহম্মদের মতো গোষ্ঠী এখনও সক্রিয়।
পাকিস্তান-ভিত্তিক এই সংগঠনটি অতীতে পুলওয়ামা হামলার মতো বড় ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।এই অভিযানের পিছনে উপত্যকায় সন্ত্রাসের পুনরুত্থান রোধের সরকারি প্রতিশ্রুতি রয়েছে। লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা সম্প্রতি বলেছেন, সন্ত্রাসের সমর্থক এবং সহায়কদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর এই বক্তব্যের পরপরই এই বড় অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ এবং সিআরপিএফ, আর্মির যৌথ টিম উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি চালাচ্ছে। শ্রীনগর ছাড়াও অন্যান্য এলাকায়ও অভিযান চলছে।










