
নয়াদিল্লি: ইরানে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠা রাজনৈতিক পরিস্থিতি (Iran)ও দেশজুড়ে চলতে থাকা সহিংস বিক্ষোভের আবহে বুধবার গভীর রাতে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ হল ভারত ও ইরানের মধ্যে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফোনে কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইরান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের “ক্রমবিবর্তনশীল পরিস্থিতি”।
এই ফোনালাপের কথা নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ তিনি লেখেন, “ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির ফোন পেয়েছি। ইরান এবং আশপাশের অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে।” যদিও এই কথোপকথনের বিস্তারিত সরকারি স্তরে প্রকাশ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ অনিশ্চিত, বিকল্প ভাবছে ICC?
এই ফোনালাপের ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ইরানে থাকা এবং ইরানগামী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন করে কড়া সতর্কতা জারি করে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, “ইরানে চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের ইরান সফর এড়িয়ে চলার জন্য আবারও জোরালোভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
এর আগেও, গত ৫ জানুয়ারি একই ধরনের একটি পরামর্শ জারি করেছিল বিদেশ মন্ত্রক। তখন ভারতীয়দের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছিল। নতুন সতর্কতায় সেই ভাষা আরও কড়া করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ইরানে বর্তমানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক ও পিআইও-দের (Persons of Indian Origin) অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের এলাকা এড়িয়ে চলা, স্থানীয় সংবাদ এবং তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়মিত নজরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যাঁরা এখনও দূতাবাসে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার কথাও বলা হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন শহরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে। একাধিক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির খবর মিলেছে। এই অস্থিরতার জেরে শুধু ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলেও উত্তেজনা বাড়ছে।
ভারতের পাশাপাশি আমেরিকাও তাদের নাগরিকদের জন্য কড়া সতর্কতা জারি করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন সরকার তাদের নাগরিকদের “অবিলম্বে ইরান ছাড়ার” নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন ভার্চুয়াল এম্বাসির তরফে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভ দ্রুত সহিংস হয়ে উঠতে পারে, যার ফলে গ্রেপ্তার, আহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একইসঙ্গে ইরানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাস্তা বন্ধ, গণপরিবহণে বিঘ্ন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত বা বন্ধ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সতর্কতায় আরও বলা হয়েছে, একাধিক বিমান সংস্থা ইরানে যাতায়াতকারী ফ্লাইট বাতিল বা সীমিত করেছে এবং ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অনেক পরিষেবা বন্ধ থাকতে পারে। ফলে দেশ ছাড়তে ইচ্ছুকদের আর্মেনিয়া বা তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে স্থলপথে বেরোনোর কথাও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জয়শঙ্কর ও আরাঘচির ফোনালাপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ইরানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতেই এই যোগাযোগ। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সেদিকে এখন সজাগ নজর রাখছে নয়াদিল্লি।










