
আপনি ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লাগেজ বহন করেন? তাহলে সাবধান! সতর্ক হওয়ার সময় এসে গিয়েছে। রেলওয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নির্ধারিত সীমার বেশি লাগেজ নিয়ে ট্রেনে উঠলে যাত্রীদের অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। অর্থাৎ, বিমান যাত্রার মতোই এবার রেল ভ্রমণেও লাগেজ সংক্রান্ত নিয়ম কড়াভাবে কার্যকর করা হবে।
লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ট্রেন যাত্রীদের জন্য লাগেজ বহনের নির্দিষ্ট সীমা বহুদিন ধরেই চালু রয়েছে। সেই সীমার মধ্যেই বিনামূল্যে লাগেজ বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে সেই পরিমাণের বেশি লাগেজ নিয়ে ভ্রমণ করলে নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি দিতে হবে।
সংসদে কী জানালেন রেলমন্ত্রী?
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫) লোকসভায় সাংসদ প্রভাকর রেড্ডির প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, যাত্রীদের ভ্রমণ শ্রেণি অনুযায়ী লাগেজ বহনের আলাদা আলাদা সীমা নির্ধারিত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান—
এসি ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীরা সর্বোচ্চ ১৫০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ বহন করতে পারেন। তবে বিনামূল্যে অনুমোদিত সীমা ৭০ কেজি।
ফার্স্ট ক্লাস ও এসি ২ টিয়ার যাত্রীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা ১০০ কেজি, যেখানে বিনামূল্যে অনুমোদিত ওজন ৫০ কেজি। এই সীমার মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের জন্য যাত্রীদের চার্জ দিতে হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
দ্বিতীয় শ্রেণি ও স্লিপার যাত্রীদের জন্য কী নিয়ম? Indian Railways luggage rules
রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণি যাত্রীরা বিনামূল্যে সর্বোচ্চ ৩৫ কেজি লাগেজ বহন করতে পারবেন। প্রয়োজনে ফি দিয়ে ৭০ কেজি পর্যন্ত বহনের অনুমতি রয়েছে।
স্লিপার শ্রেণি যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে লাগেজ বহনের সীমা ৪০ কেজি। অতিরিক্ত চার্জ দিয়ে সর্বোচ্চ ৮০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ নেওয়া যেতে পারে।
এসি থ্রি-টিয়ার ও চেয়ার কারে কড়াকড়ি
যারা এসি থ্রি-টিয়ার বা চেয়ার কারে ভ্রমণ করেন, তাঁদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর। এই শ্রেণির যাত্রীরা সর্বোচ্চ ৪০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ বহন করতে পারবেন। এর বেশি লাগেজ নিয়ে কোচে ওঠা নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে।
লাগেজের আকার নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ
রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাত্রীদের সঙ্গে নেওয়া ট্রাঙ্ক, স্যুটকেস বা বাক্সের আকার ১০০ সেমি × ৬০ সেমি × ২৫ সেমি-এর বেশি হলে তা যাত্রীবাহী কোচে রাখার অনুমতি দেওয়া হবে না। সে ক্ষেত্রে ওই লাগেজ ব্রেক ভ্যান (SLR) বা পার্সেল ভ্যানে বুক করতে হবে।
এছাড়া, কোনও বাণিজ্যিক বা মার্চেন্ডাইজ পণ্য ব্যক্তিগত লাগেজ হিসেবে বহনের অনুমতি নেই বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
কেন এই কড়াকড়ি?
রেলওয়ের দাবি, অতিরিক্ত লাগেজ শুধু যাত্রীদের আরামের ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটায় না, বরং নিরাপত্তা ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত সমস্যাও তৈরি করে। ভারী লাগেজ কোচের ভিতরে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। সেই কারণেই লাগেজ সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত।
যাত্রীদের জন্য পরামর্শ
ট্রেনে যাত্রার আগে নিজের লাগেজের ওজন ও আকার একবার ভালো করে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে রেল। অতিরিক্ত লাগেজ থাকলে আগাম বুকিং করা বা অতিরিক্ত চার্জ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকলে শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে।
রেলমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট, এই মুহূর্তে লাগেজ সংক্রান্ত নিয়মে কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা রেলওয়ের লাগেজ নীতিই আগামিদিনে আরও কড়াভাবে কার্যকর করা হবে।









