
নয়াদিল্লি, ২২ ডিসেম্বর: ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy) রাশিয়ান-উৎপাদিত সাবমেরিন আইএনএস সিন্ধুঘোষকে (INS Sindhughosh) প্রত্যাহার করেছে। এই প্রস্থান একটি যুগের সমাপ্তি চিহ্নিত করলেও, এটি নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন পুরোনো প্ল্যাটফর্মগুলিকে নতুন প্রজন্মের আধুনিক সাবমেরিন দিয়ে প্রতিস্থাপনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে, নৌবাহিনীতে ১৬টি প্রচলিত (ডিজেল-ইলেকট্রিক) সাবমেরিন রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি অত্যাধুনিক স্করপিন শ্রেণীর। ফরাসি নৌবাহিনীর সহযোগিতায় ভারতে এগুলি তৈরি করা হয়েছিল। গত ৬৭ বছরে এই সাবমেরিনগুলির মোতায়েনের ফলে ভারতের দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা এবং স্বনির্ভরতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। সূত্রমতে, আরও তিনটি স্করপিন শ্রেণীর সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।
পারমাণবিক শক্তি সামুদ্রিক শক্তিকে শক্তিশালী করে
ভারতীয় নৌবাহিনীর পারমাণবিক ডুবোজাহাজ আইএনএস অরিহন্ত এবং আইএনএস অরিঘাট এখন এর শক্তির একটি প্রধান স্তম্ভ। এই দুটি সাবমেরিন ভারতের পারমাণবিক ত্রয়ীকে শক্তিশালী করে এবং দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে কৌশলগত স্তরে এক নতুন স্তরে উন্নীত করে, যে সক্ষমতার অভাব ১৯৯০-এর দশকে ভারতের ছিল না।
আরও অরিহন্ত শ্রেণীর পারমাণবিক সাবমেরিনের উপর মনোযোগ
ভারত তার অরিহন্ত-শ্রেণীর পারমাণবিক সাবমেরিন (SSBN) সম্প্রসারণ করছে, যার মধ্যে প্রথম সাবমেরিন, INS অরিহন্ত, ২০১৬ সালে কমিশন করা হয়েছে। দ্বিতীয় আইএনএস আরিঘাট ২০২৪ সালের আগস্টে কমিশন করা হয়েছিল এবং তৃতীয় আইএনএস অরিধামান সমুদ্র পরীক্ষার পরেই কমিশন করার কথা রয়েছে, যেখানে চতুর্থ সাবমেরিনটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে চালু করা হয়েছিল এবং মোট পাঁচটি সাবমেরিনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ভারতের সামুদ্রিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করছে।









