
মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ—রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেন বরখাস্ত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এক প্রকাশ্য বক্তব্যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানান এবং মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি বিজেপিকেও কড়া সতর্কবার্তা দেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
হুমায়ুন কবীর তাঁর বক্তব্যে অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ৩৫ মিনিট সময় পেয়েছিলেন। সেই সাক্ষাতে তিনি কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক দাবি জানাননি বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময়েই তিনি দলের প্রতি আনুগত্য ও রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি মনে করছেন, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের সংগঠন ক্রমশ দুর্বল হয়েছে।
তিনি ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মধ্যে জোট থাকলেও মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল মাত্র একটি আসনে জয় পেয়েছিল, যেখানে কংগ্রেস জিতেছিল ১৪টি আসনে। হুমায়ুন কবীরের দাবি, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ভিত্তি কখনওই খুব মজবুত ছিল না। এই যুক্তির ভিত্তিতেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছি—মুর্শিদাবাদে একটি আসন জিতে দেখান।” তাঁর দাবি, ভবিষ্যতের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। এই মন্তব্য রাজনৈতিক ভাষায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। শাসকদলের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বিভাজনমূলক বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে হুমায়ুন কবীর বিজেপিকেও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বিজেপি যদি ২০০টি আসনে প্রার্থী দেয়, তবে তিনি দেখিয়ে দেবেন কীভাবে ১০০টি আসনে জয় পাওয়া যায়। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, রাজ্যের রাজনীতিতে তিনি এখনও প্রভাবশালী এবং একাধিক রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখেন। তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি নিজেকে শুধুমাত্র তৃণমূলের বিরোধী হিসেবেই নয়, বরং বিজেপির বিরুদ্ধেও এক শক্ত অবস্থানে রাখতে চাইছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হতে পারে। মুর্শিদাবাদ একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শক্ত উপস্থিতি রয়েছে। সেখানে তৃণমূল, কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা বরাবরই আলোচনায় থাকে। এই প্রেক্ষাপটে হুমায়ুন কবীরের মতো নেতার এমন মন্তব্য ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।










