নয়াদিল্লি, ২৬ ডিসেম্বর: ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) সবচেয়ে বিশ্বস্ত ফাইটার, টি-৯০ “ভীষ্ম” ট্যাঙ্কগুলি নতুন জীবন পেতে চলেছে (T-90 Tank Upgrade)। সরকার একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে যা এই ট্যাঙ্কগুলিকে আরও মারাত্মক, আধুনিক এবং “স্মার্ট” করে তুলবে। সীমান্তে চিন ও পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করে, এই আপগ্রেডেশন ভারতের সামরিক শক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায়, ট্যাঙ্কের ইঞ্জিন, সেন্সর, রাডার এবং বর্ম সম্পূর্ণরূপে প্রতিস্থাপন বা আধুনিকীকরণ করা হবে। প্রাথমিক জোর দেওয়া হচ্ছে স্বনির্ভর ভারতের উপর, অর্থাৎ বেশিরভাগ নতুন ট্যাঙ্কের উপাদান এখন দেশীয় হবে। এই আপগ্রেডের মাধ্যমে, T-90 ট্যাঙ্কগুলি কেবল রাতের অন্ধকারেও স্পষ্ট দেখতে পাবে না, বরং আকাশে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার ক্ষমতাও অর্জন করবে। এই আপগ্রেড আগামী কয়েক দশক ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া শক্তি বজায় রাখবে।
T-90 আপগ্রেড কেন প্রয়োজন?
যেকোনো মেশিনের মতো, ট্যাঙ্কেরও একটি জীবনকাল থাকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাথমিক টি-৯০ বিমান বহরের এখন মেরামত এবং নতুন প্রযুক্তির তীব্র প্রয়োজন। পুরনো ট্যাঙ্কের ইলেকট্রনিক সিস্টেমগুলি ক্রমশ পুরনো হয়ে উঠছে। নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে সফ্টওয়্যার এবং ডিজিটাল সংযোগ ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আজকাল, ছোট ড্রোনগুলি ট্যাঙ্কগুলিতে বোমা ফেলে। পুরনো টি-৯০-তে এই হুমকির বিরুদ্ধে কোনও বিশেষ সুরক্ষার অভাব ছিল। একই সময়ে, ভারী সরঞ্জাম এবং নতুন প্রতিরক্ষামূলক বর্ম স্থাপনের পরে, ট্যাঙ্কের ওজন বৃদ্ধি পায়, যার জন্য আরও শক্তিশালী ইঞ্জিনের প্রয়োজন হয়।
আপগ্রেডে কী কী পরিবর্তন আসবে?
এই ওভারহল প্রোগ্রামে টি-৯০ ট্যাঙ্কগুলিতে বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা এগুলিকে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ট্যাঙ্কগুলির মধ্যে স্থান দেবে।
১. থার্মাল সাইট এবং নতুন ‘চোখ’ – এখন পর্যন্ত, আমাদের অনেক ট্যাঙ্কের রাতের দৃষ্টি ক্ষমতা বিদেশী সেন্সরের উপর নির্ভরশীল ছিল। আপগ্রেডের পর, এটি দেশীয় থার্মাল ইমেজিং (TI) সাইট দিয়ে সজ্জিত হবে। এর ফলে আমাদের ট্যাঙ্কগুলি রাতের অন্ধকার, কুয়াশা বা ধুলোর মধ্যেও ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত শত্রুকে স্পষ্টভাবে দেখতে এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু করতে পারবে।
২. ইঞ্জিন ‘পাওয়ার আপ’ – ট্যাঙ্কের তৎপরতা বাড়ানোর জন্য, এর পুরনো ইঞ্জিনগুলিকে আপগ্রেড করা হবে। এটি ট্যাঙ্কের গতি বৃদ্ধি করবে এবং শক্তি না হারিয়ে পাহাড়ের উচ্চতার উপর দিয়েও দ্রুত চলাচল করতে পারবে।
৩. অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (APS) – এটি এই আপগ্রেডের সবচেয়ে বিপ্লবী অংশ হতে পারে।
APS হলো একটি রাডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা যা বাতাসে ট্যাঙ্কের দিকে আসা শত্রুর অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্ত করে এবং ট্যাঙ্কে আঘাত করার আগেই সেগুলো ধ্বংস করে দেয়।
DAC সভা এবং আর্থিক দিক
প্রকল্পটি প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিলের (DAC) পরবর্তী সভায় প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি (এওএন) পেতে পারে। কোটি কোটি টাকার এই চুক্তি ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি বড় উৎসাহ হবে। হাজার হাজার ট্যাঙ্কের আপগ্রেড একসাথে করা হবে না; সেনাবাহিনীর যুদ্ধ ক্ষমতা যাতে প্রভাবিত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য এটি কয়েকটি ব্যাচে বিতরণ করা হবে। এই কাজে সরকারি খাতের ইউনিটগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা সরকারি কারখানাগুলিতে কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করবে।


