চলতি বছরেই সারা দেশে তামাক নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত মোদী সরকারের

নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের প্রারম্ভ থেকেই ভারতের জনস্বাস্থ্য(tobacco)নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। ইতিমধ্যেই ওড়িশা রাজ্য গুটখা, পান মশলা ও অন্যান্য তামাক–নিকোটিনজাত পণ্যের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি…

india-nationwide-ban-tobacco-pan-masala-2026

নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের প্রারম্ভ থেকেই ভারতের জনস্বাস্থ্য(tobacco)নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। ইতিমধ্যেই ওড়িশা রাজ্য গুটখা, পান মশলা ও অন্যান্য তামাক–নিকোটিনজাত পণ্যের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, এবং কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারক মহলে এখন আলোচনা হয়েছে জাতীয় স্তরেও কি আগামী এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে সারা ভারতজুড়ে সিগারেট ও পান মশলা নিষিদ্ধ হতে পারে?

ওড়িশা সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ নতুন একটি নোটিফিকেশন জারি করে জানিয়েছে যে রাজ্যে গুটখা, পান মশলা এবং তামাক বা নিকোটিনযুক্ত সব ধরনের প্রোডাক্টের উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিক্রয়–সহ সব কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক দিকনির্দেশনার সমর্থন, যা ভারতীয় আইন মেনটেইন করে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

Advertisements

বিশ্বকাপের আগে রায়পুরে রেকর্ডবন্যায় ভাঙল পাকিস্তানের বিশ্বরেকর্ড

   

ওড়িশার এই পদক্ষেপে শুধুমাত্র ‘জব্দ বা সীমাবদ্ধ’ নয়, বরং এর আওতায় কোনও পণ্যই বিক্রি বা ব্যবহার করতে পারবে না চাই তা প্যাকেট্ড হোক বা খুলে বিক্রি হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই সরাসরি নিষেধাজ্ঞা গুটখা ও পান মশলার মতো জোরপূর্বক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন পণ্যের ব্যবহার কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষত মুখের ক্যান্সার ও অন্যান্য মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমাতে।

দু’পাশা থেকে চাপ: শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ফেব্রুয়ারি থেকে তামাক ও পান মশলা পণ্যে নতুন কর কাঠামো চালু করার বলবত করেছে, যার ফলে এই ‘সিন-গুডস’ এর দাম আগের চেয়ে বেশি হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য এগুলোর অ্যাক্সেস আরও কঠিন হবে।

ভারতে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য অনেক আগেই মধ্যমণি হিসাবে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে বারবার বলা হয়েছে যে সিগারেট, গুটখা বা পান মশলা–জাতীয় পণ্য দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, ফুসফুসের রোগ, কার্ডিওভাস্কুলার জটিলতার মতো গুরুতর রোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। যদিও কেন্দ্র এখন পর্যন্ত সিগারেট বা তামাকজাত পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার রূপায়ন ঘোষণা করেনি, ওড়িশার মতো রাজ্যের উদ্যোগ দেখা দিল national-level health policy discourse-তে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে।

এই ধরনের পদক্ষেপের পেছনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কয়েকটি মূল যুক্তি রয়েছে যেমন জনস্বাস্থ্য রক্ষা: বুকে ও ধূমপানের কারণে হওয়া রোগের প্রমাণিত বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। জেনারেশনাল হেলথ গ্যারান্টি: যুব ও নতুন প্রজন্মকে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে রাখা যাতে ভবিষ্যতে রোগ কম হয়। লোড on Healthcare System কমানো: দীর্ঘমেয়াদে তামাক–সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় দেশীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ ফেলে। এগুলোই বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে।

যদিও কেন্দ্র এখনও কোনও সরাসরি আইন ঘোষণা করেনি যে “২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে সারা ভারতজুড়ে সিগারেট ও পান মশলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে”, ওড়িশার মতো রাজ্যের সিদ্ধান্ত এবং কেন্দ্রের নতুন কর ও নীতি পরিবর্তনের দিকগুলো বোঝাচ্ছে একটি ধাপে ধাপে জাতীয় কড়া অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে ভারত সরকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন সিদ্ধান্তে অবশ্যই কঠোর বাস্তবায়ন ও পর্যাপ্ত জনসচেতনতা প্রচার প্রয়োজন, তবে এটি দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় এক মাইলফলক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, গুটখা ও পান মশলা বন্ধের পর সিগারেট ও অন্যান্য ধূমপানজাত পণ্যগুলেও চাপ আরও বাড়বে। সম্ভাব্য সারা দেশে নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটিকে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয় বরং এক ‘গেম চেঞ্জিং’ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার ও অন্যান্য মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে দেশকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

Advertisements