
তেহরান: ইরানের চলতি বিক্ষোভ ও সরকারি দমন-পীড়নের মধ্যে (India advisory)পরিস্থিতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা , কানাডা, ভারত, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া এই পাঁচটি দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সকলে একই সুরে বলছে: ইরানে যারা আছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশ ছেড়ে চলে যান। ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ আর কোনো অবস্থাতেই ইরানে যাবেন না।
ভারতীয় দূতাবাস তেহরান থেকে ১৪ জানুয়ারি নতুন অ্যাডভাইজরি জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, “ইরানের চলতি পরিস্থিতির কারণে ভারতীয় নাগরিকদের (ছাত্র, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী, পর্যটক) যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উপলব্ধ যানবাহনের মাধ্যমে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইটও রয়েছে।”
সচিনকে টপকে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতীয় হিসেবে নয়া রেকর্ড কোহলির
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, বিক্ষোভের এলাকা এড়িয়ে চলুন, পাসপোর্ট-আইডি সহ ডকুমেন্টস সবসময় কাছে রাখুন এবং দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে রেজিস্ট্রেশন না হলে ভারতে পরিবারের মাধ্যমে করার অনুরোধ করা হয়েছে। এর আগে ৫ জানুয়ারি থেকেই ভারত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে।
আমেরিকার ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি লেভেল ৪: ‘ডু নট ট্রাভেল’। মার্কিন নাগরিকদের বলা হয়েছে, “ইরানে যাবেন না এবং যারা আছেন, এখনই চলে যান।” টেররিজম, অস্থিরতা, অপহরণ, গ্রেফতারের ঝুঁকি উল্লেখ করা হয়েছে। কানাডা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়াও একই ধরনের ‘লিভ নাউ’ অ্যাডভাইজরি জারি করেছে। অস্ট্রেলিয়া স্মার্ট্রাভেলারে বলেছে, ফ্লাইট বাতিল হতে পারে, এয়ারস্পেস বন্ধ হতে পারে এখনই চলে যান, না হলে নিজের দায়িত্বে থাকবেন।
এই সতর্কতা ৫-৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এবং ১২-১৪ জানুয়ারি আরও কঠোর হয়েছে।এই সতর্কতার পিছনে রয়েছে ইরানে চলতি ব্যাপক বিক্ষোভ। ডিসেম্বর ২০২৫-এ অর্থনৈতিক সংকট (রিয়ালের দামপতন, মুদ্রাস্ফীতি) থেকে শুরু হয়ে এখন পুরোপুরি শাসনবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে ২,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, গ্রেফতার, ফাস্ট-ট্র্যাক ট্রায়াল চলছে। বিক্ষোভকারীরা খামেনেইয়ের পদত্যাগ চাইছে, অনেকে রেজা পাহলভির প্রত্যাবর্তনের দাবি তুলছে।









