
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Modi) বিশেষ ভাষণে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরজকে ভারত সফরে স্বাগত জানানো হয়। তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতর কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসে, এই সফরের তাৎপর্য, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভারত ও জার্মানির মতো দেশগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা সারা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী (PM Modi) আরও বলেন, ভারতের এবং জার্মানির মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে, এবং এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনা করবে। তিনি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তি তুলে ধরেন। ৭৫ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এই সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে এবং ভারতে ২,০০০টিরও বেশি জার্মান কোম্পানি তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে, যা পরস্পরের মধ্যে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী (PM Modi) বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি, নবীকরণযোগ্য শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও জার্মানির সহযোগিতার বৃদ্ধির দিকে। তিনি বলেন, “এই খাতগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উন্নত সহযোগিতার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক সাফল্য অর্জন করতে পারবো।”
ভাষণের এক পর্যায়ে, প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) ভারতের এবং জার্মানির মধ্যে জনগণের সম্পর্কের ঐতিহাসিক দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং স্বামী বিবেকানন্দের নাম উল্লেখ করে বলেন, “এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে ভারত এবং জার্মানির মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জার্মানিতে সাহিত্য এবং সংস্কৃতির প্রসারের পথ প্রশস্ত করেছে, এবং স্বামী বিবেকানন্দের দর্শন দুটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তি স্থাপন করেছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদী(PM Modi) আরও জানান, ভারত এবং জার্মানি ভবিষ্যতে একে অপরকে সহযোগিতা করতে শিক্ষা, মোবিলিটি এবং দক্ষতা উন্নয়ন ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি বলেন, “আজকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হলে, আমাদের পরস্পরের মধ্যে সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবন শেয়ার করতে হবে। শিক্ষা, প্রযুক্তি, এবং দক্ষতা উন্নয়ন এই সহযোগিতার অন্যতম প্রধান অঙ্গ হবে।”










