রবিবার থেকেই বিমানযাত্রায় নয়া নিয়ম জারি ভারতে

যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রায় নতুন নির্দেশিকা জারি করল ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)।…

india-flight-new-rule-power-bank-ban-dgca

যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রায় নতুন নির্দেশিকা জারি করল ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিমানের ভিতরে পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহার করে কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ করা যাবে না। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সংক্রান্ত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

Advertisements

DGCA-এর নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যাত্রীরা পাওয়ার ব্যাঙ্ক সঙ্গে রাখতে পারবেন, তবে শুধুমাত্র কেবিন ব্যাগেজে। চেক-ইন লাগেজে বা ওভারহেড বিনে পাওয়ার ব্যাঙ্ক রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি, উড়ানের সময় পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহার করে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা অন্য কোনও ডিভাইস চার্জ করা যাবে না। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুবিধার্থে পাওয়ার ব্যাঙ্ক যাত্রীর হাতে বা সহজে হাতের নাগালে রাখতে হবে।

   

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে একটি অভ্যন্তরীণ উড়ানে কেবিনের ভিতরে ধোঁয়া ও আগুন লাগার ঘটনা সামনে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, একটি পাওয়ার ব্যাঙ্কের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি করে ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’-র কারণে আগুন ধরে যায়। যদিও বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়, তবু বিষয়টি বিমান নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার বেশি গরম হলে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। বিমানের কেবিনে চাপ ও তাপমাত্রার তারতম্য থাকায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। DGCA মনে করছে, যাত্রীরা যদি উড়ানের সময় পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহার না করেন এবং সেগুলি হাতের নাগালে থাকে, তাহলে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে কেবিন ক্রু দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

নতুন নিয়মকে স্বাগত জানিয়েছেন বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, সামান্য অসতর্কতায় আকাশপথে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তাই আগাম সতর্কতাই একমাত্র পথ। এক প্রাক্তন পাইলটের কথায়, “বিমানের ভিতরে আগুন লাগা সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতিগুলোর একটি। পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা যাত্রীদের নিরাপত্তার দিক থেকেই অত্যন্ত জরুরি।”

তবে এই নিয়ম নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ঘনঘন বিমানযাত্রাকারী এবং দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করা যাত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বহু বিমানে এখনও পর্যাপ্ত ইউএসবি চার্জিং পোর্ট কাজ করে না বা একেবারেই নেই। দীর্ঘ উড়ানে ফোন বা ল্যাপটপ চার্জ রাখার জন্য পাওয়ার ব্যাঙ্কই ভরসা ছিল। নতুন নিয়মে অসুবিধা বাড়বে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

যাত্রীদের এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে DGCA এয়ারলাইন সংস্থাগুলিকে বিমানের ইন-ফ্লাইট চার্জিং পরিকাঠামো উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী দিনে নতুন বিমানগুলিতে আরও উন্নত ও নিরাপদ ইউএসবি চার্জিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনাধীন।

এদিকে বিমান সংস্থাগুলিও নতুন নির্দেশিকা মেনে চলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। উড়ানের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘোষণায় পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যাত্রীদের জানানো হবে। কেবিন ক্রুদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনও যাত্রী নিয়ম ভাঙলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রবিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন নিয়ম ভারতীয় বিমানযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে। কিছুটা অসুবিধা হলেও DGCA-এর মতে, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা যায় না। আগামী দিনে প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের অভিজ্ঞতাও আরও মসৃণ হবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।

Advertisements